বাবুগঞ্জে গাঁজা সেবনের প্রতিবাদ করায় দুই যুবককে মারধর, মাথা ফাটানোর অভিযোগ
বাবুগঞ্জে গাঁজা সেবনের প্রতিবাদ করায় দুই যুবককে মারধর, মাথা ফাটানোর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০১:২৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের বাবুগঞ্জে গাঁজা সেবনের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে দুই যুবককে মারধর ও মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে।
হামলায় মো. মেহেদী হাসান (২৬) ও মো. রিমন (২০) নামে দুই যুবক আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী গ্রামের ছোট মীরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মেহেদী হাসান রহমতপুর ইউনিয়নের কুমাড়িয়ারপিঠ এলাকার মো. আবুল হোসেনের ছেলে। রিমন একই এলাকার মো. মনির ঘরামীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চাঁদপাশা ইউনিয়নের কিসমত এলাকার কয়েকজন যুবক নদীর পূর্ব পাড়ে কুমাড়িয়ারপিঠ এলাকায় ঘুরতে যান। সেখানে রাস্তার পাশে বসে গাঁজা সেবনের অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁদের ধাওয়া করেন।
ওই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমাড়িয়ারপিঠ এলাকার দুই জেলে মাছ বিক্রির জন্য ছোট মীরগঞ্জ বাজারে গেলে তাঁদের ডেকে নেন কিসমত এলাকার কয়েকজন যুবক।
এ সময় কিসমত এলাকার মৃত শাহজাহানের ছেলে মো. সারাফাত এবং হারুন মাস্টারের ছেলে মো. মুন্নাসহ কয়েকজন যুবক মেহেদী ও রিমনকে মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে স্থানীয়রা তাঁদের শান্ত করে দেন।
এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সারাফাতসহ ৭-৮ জন যুবক দোকানে বসে থাকা মেহেদী ও রিমনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ।
এতে দুজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং তাঁরা রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
রহমতপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. জামাল হোসেন পুতুল বলেন, ‘রিমন ও মেহেদী আমার পাশেই একটি চায়ের দোকানে বসে ছিল। হঠাৎ কিসমত এলাকার সারাফাত ও মুন্নাসহ কয়েকজন যুবক সেখানে আসে। কোনো কিছু বলার আগেই সারাফাত লাঠি দিয়ে রিমন ও মেহেদীর মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁরা মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
প্রত্যক্ষদর্শী মো. আইয়ুব আলী হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি পাশেই ছিলাম। হঠাৎ সারাফাত এসে লাঠি দিয়ে রিমন ও মেহেদীর মাথায় আঘাত করে চলে যায়। পরে আমরা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। তাঁরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।’
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।




















