আগুনে পুড়ে সর্ব¯^ হারানো পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী
- আপডেট সময় : ১১:০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১৫ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
জিহাদুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘলিয়া পশ্চিমকান্দি এলাকার বাসিন্দা সোহেল শেখ এবং রুবেল শেখের একমাত্র বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু ঘরই নয় সেই সাথে পুড়ে গেছে দুই ভাইয়ের ¯^প্ন। তাদের গৃহস্থালি আসবাবপত্র, ¯^র্নালংকার, নগদ টাকা কিছুই নেই। সবই এখন শুধু ছাই। পেশায় সোহেল এবং রুবেল ব্যবসায়ী। গত ১২/১১/২০২৪ ইং তারিখ সন্ধ্যার পর দুই ভাইয়ের কেউই ছিলনা বাড়িতে। এদিকে বাড়ির রান্নাঘরে গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ লিক থাকলেও কেউ টের না পাওয়ায় অনুমান রাত ০৮.৪০ ঘটিকায় হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরনে আগুন লেগে পুড়ে গেছে তাদের দুটি বসতঘর সহ রান্নাঘর। স্থানীয় প্রচেষ্টা আর ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসলেও কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি তাদের। আগুনে এক হাত পুড়ে গেছে রুবেল শেখের।
আর এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়ামাত্র বসে থাকতে পারেনি গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। ভোরের আলো ফুটতেই জেলা জামায়াতের ইসলামীর আমীর অধ্যাপক রেজাউল করিম জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল দের নিয়ে হাজির হন আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িতে আর ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন। জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নগদ অর্থ তুলে দেয়া হয় সোহেল আর রুবেলের পিতার হাতে। তাদের ঘর পুন:নির্মাণ এবং তৎপরবর্তী যে কোন সহযোগীতার আশ্বাস দেন জেলা আমীর। এ সময় জেলা বায়তুলমাল সম্পাদক, জেলা যুব জামায়াতের সভাপতি, জেলা সদর সেক্রেটারী সহ কোটালীপাড়া উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মো: সোলায়মান গাজী, সেক্রেটারী মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, পৌর সভাপতি খলিফা মুনছুর আহমাদ সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অবশ্য জামায়াতে ইসলামীর মানবিক কার্যক্রম নতুন কিছু নয়। বরাবরই সামাজিক জনকল্যাণ মূলক কাজে তাদের কার্যক্রম প্রশংসনীয়। এর আগে কেন্দ্রীয়ভাবে ২০২৪ এর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাড়িয়ে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগীতা প্রদান সহ ৫ ই আগস্টের ঘটনায় শহীদ পরিবারের পাশে দাড়িয়ে আর্থিক অনুদান প্রদান এবং ৫ ই আগষ্টের হামলার শিকার হয়ে আহতদের বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করে বেশ আলোচনায় এসেছে দলটি। সারাদেশে অন্য সব রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে তাদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে মরিয়া সেখানে জামায়াতে ইসলামীর মানবিক ও সামাজিক কাজগুলো স্থান করে নিচ্ছে সাধারন মানুষের হৃদয়ে।
এদিকে একই দিনে দুপুর ১২.৩০ ঘটিকায় উপজেলার চিত্রাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়া জামাল শেখের অবুঝ চার সন্তানের খোজখবর নিতে তার বাড়িতে কোটালীপাড়া উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে কোটালীপাড়া উপজেলা জামায়াতের সভাপতি, সেক্রেটারী ও পৌর সভাপতি উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন এক মাস আগে জামাল মিয়ার স্ত্রী দুটি জময কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার এক সপ্তাহের মাথায় মারা যায়। আর গত তিনদিন আগে জামাল মিয়া কে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এমতাবস্থায় জামাল মিয়ার বড় ছেলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়–য়া সাজ্জাদ আর তার পরের মেয়ে ক্লাস ওয়ানে অধ্যয়নরত মোট চার ভাইবোন পড়েছে মহা বিপদের সাগরে। এই এক মাস বয়সী নবজাতক শিশুদের করুন কাহিনী প্রকাশ পেলে খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সাহায্য প্রদাণ করা হয়।

























