ঘোড়াঘাটে ৪ জুয়ারি আটক ভ্রাম্যমান আদালতে কারাদন্ড ও জরিমানা
ঘোড়াঘাটে ৪ জুয়ারি আটক ভ্রাম্যমান আদালতে কারাদন্ড ও জরিমানা
- আপডেট সময় : ১২:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভ্রাম্যমান আদালতে ৪ জুয়ারিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। ঘোড়াঘাটে এলাকায় জুয়া খেলার অভিযোগে গত ৫ অক্টোবর গভীর রাতে জুয়া খেলার আসর থেকে ৪ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে ভ্রাম্যমান আদালত প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্য বা আড়ালে জুয়ার আসর বসানোর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ০৫ অক্টোবর গভীর রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি দোকানে এলাকার কয়েকজনের জুয়া খেলার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘোড়াঘাট থানার একটি পুলিশের দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে জুয়া খেলার সময় চারজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা/আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পর আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত চারজনকেই সাত দিনের কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন সময় নিরিবিলি জায়গা, দোকানের পেছন কিংবা পরিত্যক্ত স্থানে জুয়ার আসর বসার অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর এসব স্থানে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা বলেন, “জুয়ার আসর শুধু অর্থের ক্ষতি করে না, অনেক সময় পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অপরাধেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত নজরদারি থাকলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
আরেক স্থানীয় ব্যাক্তি বলেন, “একটি জায়গায় অভিযান চালানোর পর অন্য কোথাও যেন নতুন করে আসর না বসে, সে বিষয়ে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।” চারজনকে আটকের ঘটনায় পুলিশের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে প্রশ্ন উঠেছে শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান নয়, জুয়ার আসর যাতে নিয়মিতভাবে গড়ে উঠতেই না পারে, সে জন্য আগাম নজরদারি কতটা কার্যকর? আশপাশের এলাকায় জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা আয়োজকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি অভিযান সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে; কিন্তু জুয়া নির্মূলে প্রয়োজন ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি, স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান বলেন, “জুয়া ও জুয়ার আসর পরিচালনার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের সাজা দিয়েছেন। জুয়া প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশের এ বক্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের ধারাবাহিকতা, জুয়ার আসরের নেপথ্যের আয়োজকদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই পারে এলাকায় জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে।

























