সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত ১ বিজয়নগরে শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই সবুজ হবে বাংলাদেশ— বাবুগঞ্জের কেদারপুরে ইয়াবাসহ যুবক আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক ঘোড়াঘাটে দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে ব্র্যাকের ২০০ ফলজ চারা প্রদান বিষখালী নদীতে অভিযান: ৭ লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার ও ধ্বংস বাবুগঞ্জে গাঁজা সহ প্রবাসী আটক ​ ​ঝালকাঠিতে নানা আয়োজনে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ​ কাঠালিয়ায় ৫০ কেজি ও ৩৯ পোটলা গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১: মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের বড় সাফল্য

নলছিটিতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত ১

নলছিটিতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত ১

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজেস্ব প্রতিবেদক :
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাছলমহল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর গ্রামে গত ৯ আগষ্টে মাদক ব্যবসা, পারিবারিক কলহ ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সজল খান নামের এক যুবকের মা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে, গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা এবং বর্তমানে বিএনপি দলীয় ছত্রছায়ায় থাকা স্থানীয় সাবেক মেম্বার মতি খানের প্রশ্রয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও নানা অপকর্ম চলছে। অভিযোগ রয়েছে, মতি মেম্বারের বড় ভাইয়ের ছেলে জসিম খান ওই এলাকায় মাদক চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয়রা জানান, জসিম খান তার চাচাতো ভাই সেলিম খানের ছেলে সজল খানকে দিয়ে মাদক ব্যবসা করানোর চেষ্টা করে। এর আগেও সজলকে দিয়ে জসিম অবৈধ ব্যবসা করিয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে সজলের মা-বাবা তাকে জসিমের সাথে চলাফেরা করতে নিষেধ করলে জসিম ক্ষিপ্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সজলকে কৌশলে মাদকাসক্ত করে তার কিছু গোপন ভিডিও ও তথ্য ধারণ করে জসিম তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল যাতে সে এই পথ থেকে সরে না যায়।

এরই ধারাবাহিকতায়, জসিম তার সহযোগীদের নিয়ে সজলের বাড়িতে এসে হামলা ও মারধর শুরু করে। সজলের মা-বাবা তাকে বাঁচাতে ঘর থেকে বের হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় মতি খান মেম্বার ও তার ভাই আক্কাস খান উপস্থিত হয়ে সজলের রেন্ট-এ-কার ব্যবসার একটি মোটরসাইকেল জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে সজলের মায়ের মাথায় ধারালো অস্ত্র বা লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়, যার ফলে তার মাথা ফেটে যায় এবং স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে তাকে ৬টি সেলাই দিতে হয়। এবং সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সজল খানের পিতা আক্কাস খানের মাথায় আঘাত লেগে আহত হন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান বলে জানাযায়।

ঘটনার কিছুদিন পরে ২৯ তারিখ রাত্র আনুমানিক ১:৩০ মিনিটে সময় সজল খানের পরিবারের বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে দূর্বৃত্তরা। ।

এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, মতি মেম্বার ও জসিমের সিন্ডিকেট পুরো এলাকায় মাদকের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এছাড়া মতি মেম্বারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মুখিয়া বাজারের একটি দোতলা ভবন ১৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে নিজের ছেলের নামে ভুয়া দলিল তৈরি করারও একটি পুরনো আইনি অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সেলিম খানের মেজো ছেলে শফিক খান আগামী মেম্বার নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়ায় মতি মেম্বার রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য হারানোর ভয়ে আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন। নির্বাচন ও মাদকের বিরোধকে কেন্দ্র করেই মূলত এই ঘটনাটি চরম রূপ নেয়।

এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, এই ঘটনার পেছনে থাকা মাদক সিন্ডিকেট এবং মতি মেম্বার ও জসিমের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের শক্ত নজরদারি ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমেই এই মারামারি এবং মাদক ব্যবসার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মতি খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নলছিটিতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত ১

নলছিটিতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত ১

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজেস্ব প্রতিবেদক :
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাছলমহল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর গ্রামে গত ৯ আগষ্টে মাদক ব্যবসা, পারিবারিক কলহ ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সজল খান নামের এক যুবকের মা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে, গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা এবং বর্তমানে বিএনপি দলীয় ছত্রছায়ায় থাকা স্থানীয় সাবেক মেম্বার মতি খানের প্রশ্রয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও নানা অপকর্ম চলছে। অভিযোগ রয়েছে, মতি মেম্বারের বড় ভাইয়ের ছেলে জসিম খান ওই এলাকায় মাদক চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয়রা জানান, জসিম খান তার চাচাতো ভাই সেলিম খানের ছেলে সজল খানকে দিয়ে মাদক ব্যবসা করানোর চেষ্টা করে। এর আগেও সজলকে দিয়ে জসিম অবৈধ ব্যবসা করিয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে সজলের মা-বাবা তাকে জসিমের সাথে চলাফেরা করতে নিষেধ করলে জসিম ক্ষিপ্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সজলকে কৌশলে মাদকাসক্ত করে তার কিছু গোপন ভিডিও ও তথ্য ধারণ করে জসিম তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল যাতে সে এই পথ থেকে সরে না যায়।

এরই ধারাবাহিকতায়, জসিম তার সহযোগীদের নিয়ে সজলের বাড়িতে এসে হামলা ও মারধর শুরু করে। সজলের মা-বাবা তাকে বাঁচাতে ঘর থেকে বের হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় মতি খান মেম্বার ও তার ভাই আক্কাস খান উপস্থিত হয়ে সজলের রেন্ট-এ-কার ব্যবসার একটি মোটরসাইকেল জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে সজলের মায়ের মাথায় ধারালো অস্ত্র বা লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়, যার ফলে তার মাথা ফেটে যায় এবং স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে তাকে ৬টি সেলাই দিতে হয়। এবং সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সজল খানের পিতা আক্কাস খানের মাথায় আঘাত লেগে আহত হন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান বলে জানাযায়।

ঘটনার কিছুদিন পরে ২৯ তারিখ রাত্র আনুমানিক ১:৩০ মিনিটে সময় সজল খানের পরিবারের বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে দূর্বৃত্তরা। ।

এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, মতি মেম্বার ও জসিমের সিন্ডিকেট পুরো এলাকায় মাদকের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এছাড়া মতি মেম্বারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মুখিয়া বাজারের একটি দোতলা ভবন ১৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে নিজের ছেলের নামে ভুয়া দলিল তৈরি করারও একটি পুরনো আইনি অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সেলিম খানের মেজো ছেলে শফিক খান আগামী মেম্বার নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়ায় মতি মেম্বার রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য হারানোর ভয়ে আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন। নির্বাচন ও মাদকের বিরোধকে কেন্দ্র করেই মূলত এই ঘটনাটি চরম রূপ নেয়।

এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, এই ঘটনার পেছনে থাকা মাদক সিন্ডিকেট এবং মতি মেম্বার ও জসিমের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের শক্ত নজরদারি ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমেই এই মারামারি এবং মাদক ব্যবসার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মতি খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।