সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়মের সত্যতা, পুনঃতদন্তে প্রশাসন

প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০১:২০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নাম, পদবি ও স্বাক্ষর জাল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ তদবির বাণিজ্য ও প্রতারণা চালানোর অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে মোংলা থানা পুলিশ। রোববার রাতে উপজেলার চিলা ইউনিয়নের হলদীবুনিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কামরুজ্জামান টুকু ওরফে টুকু শেখ (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম ও পদবি সম্বলিত জাল সিল, স্ট্যাম্প এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতার টুকু শেখ মোংলা উপজেলার হলদীবুনিয়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। পুলিশের দাবি, তিনি একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রভাব খাটানোর নামে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চক্রটি বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করত। চাকরি প্রদান, বদলি, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, প্রশাসনিক সুবিধা আদায় এবং বিভিন্ন সরকারি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতারণার পরিধি শুধু অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চক্রটি প্রতিমন্ত্রীর নামে ভুয়া ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) লেটার তৈরি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর ও সংস্থায় তদবিরও চালাত। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসলেও চক্রটি অত্যন্ত গোপনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করায় তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তীতে প্রশাসনের নজরে বিষয়টি এলে পুলিশ গোপনে তদন্ত শুরু করে এবং চক্রটির গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ায়।

পুলিশ জানায়, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গোপন অনুসন্ধান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা টুকু শেখের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর রোববার রাতে মোংলা থানার একটি বিশেষ দল চিলা ইউনিয়নের হলদীবুনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া জাল সিল-স্ট্যাম্প ও অন্যান্য আলামত দেখে উপস্থিত ব্যক্তিরাও বিস্মিত হন।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষর ও সিল জাল করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণার ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় টুকু শেখসহ সরাসরি জড়িত তিনজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

পুলিশের ধারণা, এই প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং এর সঙ্গে আরও ব্যক্তি জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই চক্রটি কতদিন ধরে সক্রিয় ছিল, কতজন মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং কোথায় কোথায় জাল কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছে—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজ সোমবার গ্রেফতার টুকু শেখকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি চাকরি, বদলি, টেন্ডার কিংবা বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়, তবে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।ছবি সংযুক্ত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

আপডেট সময় : ০১:২০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নাম, পদবি ও স্বাক্ষর জাল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ তদবির বাণিজ্য ও প্রতারণা চালানোর অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে মোংলা থানা পুলিশ। রোববার রাতে উপজেলার চিলা ইউনিয়নের হলদীবুনিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কামরুজ্জামান টুকু ওরফে টুকু শেখ (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম ও পদবি সম্বলিত জাল সিল, স্ট্যাম্প এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতার টুকু শেখ মোংলা উপজেলার হলদীবুনিয়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। পুলিশের দাবি, তিনি একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রভাব খাটানোর নামে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চক্রটি বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করত। চাকরি প্রদান, বদলি, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, প্রশাসনিক সুবিধা আদায় এবং বিভিন্ন সরকারি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতারণার পরিধি শুধু অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চক্রটি প্রতিমন্ত্রীর নামে ভুয়া ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) লেটার তৈরি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর ও সংস্থায় তদবিরও চালাত। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসলেও চক্রটি অত্যন্ত গোপনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করায় তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তীতে প্রশাসনের নজরে বিষয়টি এলে পুলিশ গোপনে তদন্ত শুরু করে এবং চক্রটির গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ায়।

পুলিশ জানায়, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গোপন অনুসন্ধান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা টুকু শেখের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর রোববার রাতে মোংলা থানার একটি বিশেষ দল চিলা ইউনিয়নের হলদীবুনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া জাল সিল-স্ট্যাম্প ও অন্যান্য আলামত দেখে উপস্থিত ব্যক্তিরাও বিস্মিত হন।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষর ও সিল জাল করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণার ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় টুকু শেখসহ সরাসরি জড়িত তিনজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

পুলিশের ধারণা, এই প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং এর সঙ্গে আরও ব্যক্তি জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই চক্রটি কতদিন ধরে সক্রিয় ছিল, কতজন মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং কোথায় কোথায় জাল কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছে—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজ সোমবার গ্রেফতার টুকু শেখকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি চাকরি, বদলি, টেন্ডার কিংবা বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়, তবে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।ছবি সংযুক্ত আছে।