২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, ৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি, সোমবার, ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজেকে রাজনৈতিক টাইমলাইনে আনার জন্য অতি উৎসাহী মহলের তৎপরতায় নিষ্পত্তি হওয়া মামলা পুনরুজ্জীবিত করায় এমপি সরোয়ারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের আশঙ্কা করছেন রাজনীতিবিদরা।
বরিশালে সঠিক স্থান নিয়ে দ্বন্দ্ব হওয়া এবং দায়িত্বে না থাকলেও তার নাম জড়িয়ে পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া একটি মামলা পুনরায় নারাজি দিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এজাহার হিসেবে রুজু করায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র একাধিক শীর্ষ নেতারা।
তাদের অভিযোগ, একটি মহল অতি উৎসাহী হয়ে বরিশাল সদর-৫ আসনের এমপি মজিবুর রহমান সরোয়ার-কে খুশি করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে।এই মামলার মধ্য দিয়ে যদিও এমপি সারোয়ার খুশি হবেন বা হবেন না তা বড় কথা নয় কিন্তু প্রশাসনের সাথে বিএনপির একটি দূরত্ব তৈরি করার পাঁয়তারা করতেছে এই অতি উৎসাহী মহলটি।
দলীয় বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানাযায়, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর যে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও মহানুভবতার বার্তা দিয়েছেন সঠিক তথ্যবিহীন এই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে তার বিপরীত বলে মনে করছেন একাধিক বিএনপি জাতীয়,স্থানীয় নেতারা।
বরিশাল বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোকিত বরিশালের প্রতিবেদককে বলেন পুলিশ আগে যে মামলাটি বাদীর সম্মতি নিয়ে নিষ্পত্তি করেছিল সেটি আবার দল ক্ষমতায় আসার পরপরই চালু করায় দলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট লোকাল এমপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে ধারণা করেন তারা।
নেতারা আরও বলেন মামলার এজাহারে যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে ছিলেন না এবং কেউ কেউ অনেক আগেই বরিশাল ছেড়ে অন্যত্র বদলি হয়ে গিয়েছিলেন।এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় বাধা অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বরিশালের সাবেক পুলিশ কমিশনার, সাবেক জেলা প্রশাসক এবং সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম-সহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-০২ বাদীর আবেদন পর্যালোচনা করে কোতোয়ালী মডেল থানাকে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলায় আরও ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামাকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল বন্দর থানার চাঁদপুর ইউনিয়নের রায়পুরা এলাকার বিশ্বাসের হাট নদীর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পথরোধ, অপহরণ, মারধর, হত্যাচেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৬৫, ৩২৩, ৩০৭, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেছেন বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউল আলম খান পলাশ।তিনি অভিযোগ করেন,২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণাকালে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে হামলা ও অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন।
এদিকে, কোতোয়ালী থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করছে এবং বিষয়টি দলীয়ভাবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কয়েকজনের সাথে উক্ত মামলাটির বিষয়ে আলাপ করলে তারা বলেন সামান্য একটি ঘটনা নিয়ে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও প্রশাসনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে একটি স্বার্থন্বেষী মহল এ ধরনের একটি নিষ্পত্তিকৃত মামলা পুনরায় দল ক্ষমতায় আসার পরে উক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুনরায় চালু করেছেন।যা আমাদের মনকে ব্যথিত করেছে এবং এত বড় একটি রাজনৈতিক দলের এ ধরনের একটি ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের সাথে দূরত্ব তৈরি করা কাম্য নয় বলে তারা মনে করেন তারা।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আরেকজন প্রতিবেদককে বলেন বিষয়টি যদি বরিশাল সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরে নিয়ে নিস্পত্তি করে দেয় সেটাই ভালো হবে বলে ধারণা করেন তিনি।তাহলে দল ও প্রশাসনের মধ্যে দূরত্ব কমে আসবে এবং সুসম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে।