সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়মের সত্যতা, পুনঃতদন্তে প্রশাসন রাজাপুরে বেহাল সড়ক পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন: দুই যুগের দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ চুয়াডাঙ্গায় রাইচ কুকারের সুইচ দেবার কালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু রহমতপুর সমিতি ঢাকা আহ্বায়ক কমিটি গঠন বিজয়নগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ১ আহত ৫ ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভাড়া ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর দায়ে অভিযান দর্শনায় বিজিবির অভিযানে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে,

সরকারের মন্ত্রীদের চেয়ে পেঁয়াজ অনেক শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৯ ২৯০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক::আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের চেয়ে পেঁয়াজ অনেক শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলাল বলেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র- এটা হচ্ছে দিন ও রাতের মতো। জিয়া পরিবারকে যদি আমরা সূর্যের আলোর মতো দেখি, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আমাদের অমাবস্যার মতো দেখতে হবে। নিকষ অন্ধকারে ঢেকে গেছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আজ যে জাতীয়তাবাদ মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে, পাসপোর্টে সিল মারা হচ্ছে, প্রতিটি পাসপোর্টে লেখা থাকে জাতীয়তা বাংলাদেশি।এছাড়া স্মার্ট কার্ড দেখেন, জাতীয়তা বাংলাদেশি লেখা আছে, বাঙালি নয়। বাঙালি বাঙালি বলতে বলতে এখন আওয়ামী লীগের নেতারা যে মুখে ফেনা তোলেন, আমাদের কাছ থেকে আইডিয়া নিয়েই তারা চলেন।

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আজ তারা গ্রহণ করেছে। বিএনপির গঠনতন্ত্রে ছিল মুক্তবাজার অর্থনীতি আর আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র শেখ মুজিবের সময় ছিল সমাজতন্ত্র, সেটাকে তারা মাটিচাপা দিয়ে বিএনপি ও জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার মূল উদ্দেশ্যের একটি ছিল বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করা, আধুনিকায়ন করা। যে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা সবসময় বলেছে তারা আজ সেনাবাহিনীকে খুশি করার জন্য যা যা করার তা-ই করছি। বিএনপির দর্শনগুলো একে একে তারা চুরি করে নিয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক যে সম্পদ সেগুলো একে একে তারা চুরি করে নিয়ে প্রচার করছে, কিন্তু আমরা পারছি না।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, আজ তো বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশে কোথায়? ৩০ লাখ শহীদের বিনিময় এবং দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছিলাম সেই বাংলাদেশ কোথায়? এ বাংলাদেশ আমাদের কাছে অচেনা। যে বাংলাদেশে মা-বোনেরা কখন ধর্ষিত হবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এমন বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম যে বাংলাদেশে বাসের চাকায় পিষ্ট শিক্ষার্থীরা মারা যাবে। সড়কের আইন নিয়ে শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকবে এবং সেই ধর্মঘটে সমর্থন থাকবে আওয়ামী লীগের নেতা শাজাহান খানের। এমন বাংলাদেশ আমরা চাইনি।

তিনি আরও বলেন, ‘যে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও পেঁয়াজের দাম কমেনি। মন্ত্রী ও সচিবের মুখে থু থু দিয়ে পেঁয়াজের দাম আজও ২০০ টাকা। আওয়ামী লীগের চেয়ে, সরকারের মন্ত্রীদের চেয়ে পেঁয়াজ অনেক শক্তিশালী। পেঁয়াজের যে লোমগুলো আছে, আমাদের মা-বোনেরা যেগুলো ফেলে দেয় ওগুলো যদি লোম না হয়ে হাত হতো তাহলে এতদিনে টিপু মুনশির গলা টিপে ধরত এবং বলত যে, তোর কোনো ক্ষমতা নাই। ক্ষমতা আমার পেঁয়াজের বেশি।’

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এমন বাংলাদেশে আমরা বাস করি যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে বলতে হয়, ‘রডের বদলে বাঁশ দেবেন না, সিমেন্টের বদলে বালি দেবেন না।’

তিনি বলেন, ক্যাসিনো সম্রাটকে অসুস্থতার কথা বলে আদালতে না নিয়ে হসপিটালে নিয়েছে। অথচ বেগম খালেদা জিয়া যিনি তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, হাঁটতে পারেন না, হুইল চেয়ারে মাথা নিচের দিকে দিয়ে থাকতে হয়, তাকে জোর করে আদালতে হাজিরা দিতে নিয়ে যাচ্ছে। তাই দেশে গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে আসবে।

সংগঠনের সভাপতি মাহফুজুল কবীরের সভাপতিত্বে ও কৃষক দলের সদস্য এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়ন মোহাম্মদ আনোয়ার, আলহাজ খলিলুর রহমান, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সরকারের মন্ত্রীদের চেয়ে পেঁয়াজ অনেক শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

আপডেট সময় : ০১:০৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক::আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের চেয়ে পেঁয়াজ অনেক শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলাল বলেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র- এটা হচ্ছে দিন ও রাতের মতো। জিয়া পরিবারকে যদি আমরা সূর্যের আলোর মতো দেখি, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আমাদের অমাবস্যার মতো দেখতে হবে। নিকষ অন্ধকারে ঢেকে গেছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আজ যে জাতীয়তাবাদ মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে, পাসপোর্টে সিল মারা হচ্ছে, প্রতিটি পাসপোর্টে লেখা থাকে জাতীয়তা বাংলাদেশি।এছাড়া স্মার্ট কার্ড দেখেন, জাতীয়তা বাংলাদেশি লেখা আছে, বাঙালি নয়। বাঙালি বাঙালি বলতে বলতে এখন আওয়ামী লীগের নেতারা যে মুখে ফেনা তোলেন, আমাদের কাছ থেকে আইডিয়া নিয়েই তারা চলেন।

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আজ তারা গ্রহণ করেছে। বিএনপির গঠনতন্ত্রে ছিল মুক্তবাজার অর্থনীতি আর আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র শেখ মুজিবের সময় ছিল সমাজতন্ত্র, সেটাকে তারা মাটিচাপা দিয়ে বিএনপি ও জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার মূল উদ্দেশ্যের একটি ছিল বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করা, আধুনিকায়ন করা। যে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা সবসময় বলেছে তারা আজ সেনাবাহিনীকে খুশি করার জন্য যা যা করার তা-ই করছি। বিএনপির দর্শনগুলো একে একে তারা চুরি করে নিয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক যে সম্পদ সেগুলো একে একে তারা চুরি করে নিয়ে প্রচার করছে, কিন্তু আমরা পারছি না।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, আজ তো বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশে কোথায়? ৩০ লাখ শহীদের বিনিময় এবং দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছিলাম সেই বাংলাদেশ কোথায়? এ বাংলাদেশ আমাদের কাছে অচেনা। যে বাংলাদেশে মা-বোনেরা কখন ধর্ষিত হবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এমন বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম যে বাংলাদেশে বাসের চাকায় পিষ্ট শিক্ষার্থীরা মারা যাবে। সড়কের আইন নিয়ে শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকবে এবং সেই ধর্মঘটে সমর্থন থাকবে আওয়ামী লীগের নেতা শাজাহান খানের। এমন বাংলাদেশ আমরা চাইনি।

তিনি আরও বলেন, ‘যে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও পেঁয়াজের দাম কমেনি। মন্ত্রী ও সচিবের মুখে থু থু দিয়ে পেঁয়াজের দাম আজও ২০০ টাকা। আওয়ামী লীগের চেয়ে, সরকারের মন্ত্রীদের চেয়ে পেঁয়াজ অনেক শক্তিশালী। পেঁয়াজের যে লোমগুলো আছে, আমাদের মা-বোনেরা যেগুলো ফেলে দেয় ওগুলো যদি লোম না হয়ে হাত হতো তাহলে এতদিনে টিপু মুনশির গলা টিপে ধরত এবং বলত যে, তোর কোনো ক্ষমতা নাই। ক্ষমতা আমার পেঁয়াজের বেশি।’

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এমন বাংলাদেশে আমরা বাস করি যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে বলতে হয়, ‘রডের বদলে বাঁশ দেবেন না, সিমেন্টের বদলে বালি দেবেন না।’

তিনি বলেন, ক্যাসিনো সম্রাটকে অসুস্থতার কথা বলে আদালতে না নিয়ে হসপিটালে নিয়েছে। অথচ বেগম খালেদা জিয়া যিনি তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, হাঁটতে পারেন না, হুইল চেয়ারে মাথা নিচের দিকে দিয়ে থাকতে হয়, তাকে জোর করে আদালতে হাজিরা দিতে নিয়ে যাচ্ছে। তাই দেশে গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে আসবে।

সংগঠনের সভাপতি মাহফুজুল কবীরের সভাপতিত্বে ও কৃষক দলের সদস্য এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়ন মোহাম্মদ আনোয়ার, আলহাজ খলিলুর রহমান, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।