২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১৩ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি, শনিবার, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
সর্বশেষ সংবাদ :
শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপরেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ এর ১৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা আগৈলঝাড়ায় অনুষ্ঠিত মুজিব”একটি জাতির রুপকার প্রদর্শিত হলো বরিশালের গৌরনদী লাইসেন্সবিহীন প্যাথলজি সেন্টারকে জরিমানা ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গৌরনদীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে ঘুস গ্রহণকালে ধরা কর্মকর্তা টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ৩ দিন পর দাফন হলো মরদেহ ঘোড়াঘাটে এক বছরে ৪৮টি মামলায় ২০ লাখ টাকার মাদক জব্দ মায়ের জানাজায় অংশ নিতে ফিরলেন ইতালি থেকে, সড়কে ঝরল প্রাণ অনিবন্ধিত সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র দ্রুত বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝালকাঠি’তে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এর উদ্যোগে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএমপি কমিশনার এর অংশগ্রহণ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাকির বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাকির বহিষ্কার

অবশেষে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বহিস্কারের বিষয়ে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু বরিশার সাংবাদিকদের জানান, আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউজে মাহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনিুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে এসএম জাকির হোসেনকে কমিটি থেকে বাহিস্কারের দাবী জানান। নেতাকর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে প্রাথমিকভাবে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে কমিটি থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলেও জানান তিনি।

বহিস্কারের লিখিত কপি চাওয়া হলে যুগ্ম সম্পাদক লিটু বলেন, আগামীকাল রবিবার কেন্দ্রে লিখিত কপি পাঠানোর পরে সাংবাদিকদের দেয়া হবে। এর আগে দেয়া যাবেনা।

বহিস্কারের বিষয়ে জানতে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল ও দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের কাছে জানতে চাইলে তারা কোন মন্তব্য করতে অপারগতা জানান। সভাপতি ও দপ্তর সম্পাদকের অপারগতার বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু বলেন এ বিষয়িটি ব্রিফ করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাই তারা কোন মন্তব্য করেননি।

দলীয় সূত্র জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের প্রথমে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামীতে এসব ব্যক্তি যেন দলের পদ-পদবীতে আসতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদের মদদদাতাদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের পদ-পদবীতে থেকে অব্যাহতি দেওয়া না হলেও ‘সময় মতো’ উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের কনফারেন্স রুমে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ ও কর্মীদের কাছ থেকে মুচলেকা রাখার চেষ্টায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন আলীগ নেতা এসএম জাকির হোসেন। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যথিত হওয়ায়ও তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।

এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৮ অক্টোবর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একটি দল আমার বাড়ির নির্মাণাধীন ভবনের অননুমোদিত বর্ধিতাংশ (র‌্যাম) উচ্ছেদ করতে যায়। এ সময় আমি পুরো বিষয়টি অবগত না হয়েই তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ করি। স্থানীয় কিছু মানুষ আমার প্রতিবাদের সাথে প্রতিবাদ করেন এবং তারাও উচ্ছেদে বাধা দেন। সিটি করর্পোরেশনের কর্মীরা আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এক পর্যায়ে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করেন। এ সময় আমি বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে না পেরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের কাছ থেকে মুচলেকা রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আমাকে মুচলেকার বিষয়টি আইনসিদ্ধ নয় বলে বুঝিয়ে বললে আমি আমার ভুল বুঝতে পারি।

এ সময় প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু ও রফিকুল ইসলাম খোকন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাঈদ আহম্মেদ মান্না ও তৌহিদুর রহমান ছাবিদসহ প্রায় ২০ জন কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে উপিস্থিত ছিলেন। আমার পরিবার এবং এলাকাবাসীর আচরণ ও কথায় ওই সময় তারা মর্মাহত হন এবং সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ হয়। এহেন আচরণের জন্য আমি দুঃখিত। একই সাথে পুরো ঘটনার জন্য জননন্দিত নগর পিতা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।

এসময় তিনি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি মাত্র। আমি আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার নিয়ন্ত্রণাধীনসহ কয়েকটি পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরগণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ব্যথিত হওয়ায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সাথে আমি নিজ দায়িত্বে সিটি কর্পোরেশনের আইন মেনে ভবনের বর্ধিতাংশ অপসারণ এবং নগরীর উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করবো।

লিখিত বক্তব্য শেষে এসএম জাকির উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমার রাজনৈতিক অভিভাবক আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির জন্য সবাই দোয়া করবেন। পাশাপাশি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর কাজে সকলকে সহযোগিতা করার অনুরোধ রইলো।

সংবাদ সম্মেলনে, সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদ চৌধুরী, এমএম আমজাদ হোসাইন, নজরুল ইসলাম চুন্নু, হুমায়ন কবির, আক্তার ফারুক শাহীন, পুলক চ্যাটার্জি, কাজল ঘোষ, গোপাল সরকারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019