সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়মের সত্যতা, পুনঃতদন্তে প্রশাসন রাজাপুরে বেহাল সড়ক পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন: দুই যুগের দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ চুয়াডাঙ্গায় রাইচ কুকারের সুইচ দেবার কালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু রহমতপুর সমিতি ঢাকা আহ্বায়ক কমিটি গঠন বিজয়নগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ১ আহত ৫ ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভাড়া ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর দায়ে অভিযান দর্শনায় বিজিবির অভিযানে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে,

টাঙ্গাইল মির্জাপুরে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রিতে বাধ্য হয়েছে পুজারীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩৪৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আব্দুল্লাহ আল মামুন পিন্টু টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদানের চাল সিন্ডকেটের কবলে পড়ে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় খাদ্য গুদামকে ঘিরে গড়ে উঠা সিন্ডিকেট এই ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, পূজা উযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এই চক্রের সাথে জড়ীত থাকার অভিযোগও রয়েছে।সিন্ডিকেট তৈরি করায় সুবিধাভোগীরা কম মূল্যেই চাল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এ নিয়ে পূজারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এ বছর ২৩৬টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা মন্ডপগুলোর বিপরীতে সরকারিভাবে প্রতি মন্ডপে ৫০০ কেজি করে ১১৮ মেট্রেক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। অধিকাংশরাই এই চাল উত্তোলন না করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে কালোবাজারিরা।তারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে সিন্ডিকেট তৈরি করে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০ টাকা করে। সে অনুযায়ী প্রতিটি পূজা মন্ডপের কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কাছে ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্ত চালের বর্তমান বাজার কেজি প্রতি ২৮ থেকে ২৯ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাশ্ববর্তী টাঙ্গাইল সদর ও দেলদুয়ার উপজেলায় প্রতি কেজি চাল ১৮ থেকে ২০ টাকা দেয়া হয়েছে।হিসেব মতে, মির্জাপুর উপজেলায় কেজি প্রতি ১০ টাকা করে চালের দাম কম দেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে ১১৮ টন চাল থেকে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সিন্ডিকেট সদস্যদের পকেটে গেছে।এছাড়া চালের দাম আশেপাশের উপজেলার মত না দেয়া হলেও বাজার অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা চাল পাইকারি দরে ২২ থেকে ২৩ টাকায় বিক্রি করেছেন। এ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বাড়তি আরও ৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা লাভ করেছেন। এতে ওই সিন্ডিকেটের সস্যদের মোট লাভ দাড়ায় ১৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
জানতে চাইলে সন্ডিকিটের এক সদস্য বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছিলাম চালের দাম ১০ টাকা কেজি দিব। ইচ্ছে হলে আপনারা চাল দিতে পারেন, না হলে নিয়ে যেতে পারেন। পরে তারা আমাদের কাছে চাল বিক্রি করেছে। আমরা ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করতে কাউকে বাধ্য করিনি।’
লতিফপর ইউনয়িনরে সুবিধাভোগী চিত্তরঞ্জন সূত্রধররে বাড়ির পূজা মন্ডপের সহসভাপতি স্বপন সূত্রধর জানান, তার ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। অনেক কাকুতি মিনতি করেও কোন লাভ হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি পূজা মন্ডপ কমিটির সভাপতি জানান, চালের দামের বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা পূজা উযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করেছিলাম। তারা খাদ্য গুদামে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে তারা কোন আশার বাণী শুনাননি। বরং ৫ হাজার টাকা করে নিতে বলেছেন। বিষয়টি রহস্যজনক বলে তারা মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’
টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রদীপ কুমার গুন বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। টাঙ্গাইল জেলার অন্য স্থানে যেখানে ৫০০ কেজি চালের দাম ৯ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে সেখানে মির্জাপুর মাত্র ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এব্যাপারে জানতে চাইলে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মালেক বলেন, বিষয়টি নিয়ে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টাঙ্গাইল মির্জাপুরে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রিতে বাধ্য হয়েছে পুজারীরা

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০১৯

আব্দুল্লাহ আল মামুন পিন্টু টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদানের চাল সিন্ডকেটের কবলে পড়ে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় খাদ্য গুদামকে ঘিরে গড়ে উঠা সিন্ডিকেট এই ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, পূজা উযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এই চক্রের সাথে জড়ীত থাকার অভিযোগও রয়েছে।সিন্ডিকেট তৈরি করায় সুবিধাভোগীরা কম মূল্যেই চাল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এ নিয়ে পূজারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এ বছর ২৩৬টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা মন্ডপগুলোর বিপরীতে সরকারিভাবে প্রতি মন্ডপে ৫০০ কেজি করে ১১৮ মেট্রেক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। অধিকাংশরাই এই চাল উত্তোলন না করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে কালোবাজারিরা।তারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে সিন্ডিকেট তৈরি করে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০ টাকা করে। সে অনুযায়ী প্রতিটি পূজা মন্ডপের কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কাছে ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্ত চালের বর্তমান বাজার কেজি প্রতি ২৮ থেকে ২৯ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাশ্ববর্তী টাঙ্গাইল সদর ও দেলদুয়ার উপজেলায় প্রতি কেজি চাল ১৮ থেকে ২০ টাকা দেয়া হয়েছে।হিসেব মতে, মির্জাপুর উপজেলায় কেজি প্রতি ১০ টাকা করে চালের দাম কম দেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে ১১৮ টন চাল থেকে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সিন্ডিকেট সদস্যদের পকেটে গেছে।এছাড়া চালের দাম আশেপাশের উপজেলার মত না দেয়া হলেও বাজার অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা চাল পাইকারি দরে ২২ থেকে ২৩ টাকায় বিক্রি করেছেন। এ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বাড়তি আরও ৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা লাভ করেছেন। এতে ওই সিন্ডিকেটের সস্যদের মোট লাভ দাড়ায় ১৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
জানতে চাইলে সন্ডিকিটের এক সদস্য বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছিলাম চালের দাম ১০ টাকা কেজি দিব। ইচ্ছে হলে আপনারা চাল দিতে পারেন, না হলে নিয়ে যেতে পারেন। পরে তারা আমাদের কাছে চাল বিক্রি করেছে। আমরা ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করতে কাউকে বাধ্য করিনি।’
লতিফপর ইউনয়িনরে সুবিধাভোগী চিত্তরঞ্জন সূত্রধররে বাড়ির পূজা মন্ডপের সহসভাপতি স্বপন সূত্রধর জানান, তার ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। অনেক কাকুতি মিনতি করেও কোন লাভ হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি পূজা মন্ডপ কমিটির সভাপতি জানান, চালের দামের বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা পূজা উযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করেছিলাম। তারা খাদ্য গুদামে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে তারা কোন আশার বাণী শুনাননি। বরং ৫ হাজার টাকা করে নিতে বলেছেন। বিষয়টি রহস্যজনক বলে তারা মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’
টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রদীপ কুমার গুন বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। টাঙ্গাইল জেলার অন্য স্থানে যেখানে ৫০০ কেজি চালের দাম ৯ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে সেখানে মির্জাপুর মাত্র ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এব্যাপারে জানতে চাইলে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মালেক বলেন, বিষয়টি নিয়ে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।