সংবাদ শিরোনাম ::
আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগের ১০ নেতা-কর্মীকে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা বাবুগঞ্জে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল কারার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল কাঠালিয়ায় সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি: মানববন্ধনে প্রতিবাদ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সুবিধা না করতে পেরে মানববন্ধনের নাটক ঘোড়াঘাট থানার নবাগত ওসি সাথে ঘোড়াঘাট প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বাস্থ্যবিষয়ক সাইড ইভেন্টে নেতৃত্ব দেবেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝালকাঠিতে ২০ পিস ইয়াবা ৫০ হাজার টাকা সহ মাদক কারবারি গ্রেফতার কাঠালিয়ায় এক শিক্ষক কে ঘিরে নানা অভিযোগ, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

আবরার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মারা গেছে কিন্তু আমরা এ নির্যাতন সহে বেঁচে আছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯ ৩১১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমাদের জীবন-মরণ ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে। তারা যা চায় তা-ই আমাদের করতে হবে। তারা চাইলে যেকোনো সময় আমাদের পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে। ছাদ থেকে ফেলে দিতে পারে। তাদের কথার বাইরে চলার কোনো সুযোগ নেই আমাদের।’

এভাবেই ছাত্রলীগের র‌্যাগিং ও নির্যাতনের বর্ণনা দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ড. এম এ রশীদ হলের ১৫তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী।

ড. এম এ রশীদ হলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এই ছাত্র বলেন, ‘আবরার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মারা গেছে। কিন্তু আমরা এই নির্যাতন সয়ে বেঁচে আছি। আবরারের হত্যার পর তার খুনিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে কিন্তু আমাদেরকে নিয়মিত যারা নির্যাতন করে, আহত করে তাদের কোনো বিচার হয় না। তারা নেতার বেশে দাঁপিয়ে ঘুরে বেড়ান।’

তিনি বলেন, ‘বুয়েটের এই হলে ছাত্রলীগের নির্যাতন অনেক দিনের। সাড়ে তিন বছরে আমি হলে থেকে বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করেছি। নির্যাতন সহ্য করার পর আমি হলও ছাড়তে পারি না। হলে উঠে যদি আবার হলে থেকে নেমে যাই, তাহলে ছাত্রলীগ আমাদের ক্যাম্পাসে আসতে না দেয়ার হুমকি দেয়। অনেক নির্যাতন দেখেছি। এর মধ্যে আমার বন্ধু নাসিমের নির্যাতনের ঘটনা খুবই মর্মান্তিক।’

নাসিম তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ছাত্রলীগের ঘটনা নিয়ে বুয়েটের একটি ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন-

‘গত বছরের ২৩ নভেম্বর ২০১৮, রাত ১১টা। পরেরদিন দিন অপারেটিং সিস্টেম অনলাইন (প্রেজেন্টেশন পরীক্ষা) থাকায় আমি আর আমার রুমমেট হাসিব পড়তেছিলাম। হঠাৎ ১০-১২ জন আমার রুমে ঢোকে। তাদের মধ্যে ১৪তম ব্যাচের ৫-৬ জন ,১৫-এর ৩-৪ জন বাকিরা ১৬, ১৭ এর ছিল। ১৪-এর মিনহাজ ভাই আমাদের জিজ্ঞেস করে, তোরা কে কে হল ফেস্টের টাকা দিস নাই। আমাদের রুমের কেইউ টাকা দিই নাই। আমি বললাম, ভাই, আমি হল প্রোগ্রামে থাকব না তাই টাকা দিব না। ১৪-এর বাধন ভাই বলল, হল ফেস্টে থাকিস বা না থাকিস টাকা দিতে হবে। ভাই, আমি হল ফেস্টে থাকব না, তো কেন টাকা দিব?’

‘মিনহাজ : বেয়াদব, তুই কীভাবে আমাদের মুখের ওপর এইভাবে না করতে পারিস। রুমে বড় ভাই ঢুকা সত্যেও তুই কীভাবে পড়তেছিস? (আমার ল্যাপটপ কোড রান করার জন্য ওপেন ছিল)। তুই কীভাবে এই হলে থাকিস আমি দেখে নিব। ফাহিম ওর সব কিছু নামা রুম থেকে।’

‘ফাহিম, ফাহিম বলে চিল্লাইয়া রুম থেকে চলে গেছে। ১৪-এর সবাই আমার ওপর চিল্লাচ্ছিল তখন কীভাবে আমি এইভাবে না করতে পারলাম। চিল্লানোর সাথে সাথে এত অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতেছিল যে এই ধরনের গালি আমি জীবনে মুখেও আনতে পারব না। কিছুক্ষণ পর মেহেদি আর কায়েদ আমার রুমে ঢুকে জিজ্ঞেস করল, কী বলছিলাম আমি। আমি বললাম যে, ভাই, আমি হল কনসার্টে থাকব না, তাই টাকা দিব না। মেহেদি বলল, তোর এইভাবে বলা উচিত হয়নি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আবরার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মারা গেছে কিন্তু আমরা এ নির্যাতন সহে বেঁচে আছে

আপডেট সময় : ০২:২৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯

আমাদের জীবন-মরণ ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে। তারা যা চায় তা-ই আমাদের করতে হবে। তারা চাইলে যেকোনো সময় আমাদের পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে। ছাদ থেকে ফেলে দিতে পারে। তাদের কথার বাইরে চলার কোনো সুযোগ নেই আমাদের।’

এভাবেই ছাত্রলীগের র‌্যাগিং ও নির্যাতনের বর্ণনা দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ড. এম এ রশীদ হলের ১৫তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী।

ড. এম এ রশীদ হলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এই ছাত্র বলেন, ‘আবরার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মারা গেছে। কিন্তু আমরা এই নির্যাতন সয়ে বেঁচে আছি। আবরারের হত্যার পর তার খুনিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে কিন্তু আমাদেরকে নিয়মিত যারা নির্যাতন করে, আহত করে তাদের কোনো বিচার হয় না। তারা নেতার বেশে দাঁপিয়ে ঘুরে বেড়ান।’

তিনি বলেন, ‘বুয়েটের এই হলে ছাত্রলীগের নির্যাতন অনেক দিনের। সাড়ে তিন বছরে আমি হলে থেকে বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করেছি। নির্যাতন সহ্য করার পর আমি হলও ছাড়তে পারি না। হলে উঠে যদি আবার হলে থেকে নেমে যাই, তাহলে ছাত্রলীগ আমাদের ক্যাম্পাসে আসতে না দেয়ার হুমকি দেয়। অনেক নির্যাতন দেখেছি। এর মধ্যে আমার বন্ধু নাসিমের নির্যাতনের ঘটনা খুবই মর্মান্তিক।’

নাসিম তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ছাত্রলীগের ঘটনা নিয়ে বুয়েটের একটি ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন-

‘গত বছরের ২৩ নভেম্বর ২০১৮, রাত ১১টা। পরেরদিন দিন অপারেটিং সিস্টেম অনলাইন (প্রেজেন্টেশন পরীক্ষা) থাকায় আমি আর আমার রুমমেট হাসিব পড়তেছিলাম। হঠাৎ ১০-১২ জন আমার রুমে ঢোকে। তাদের মধ্যে ১৪তম ব্যাচের ৫-৬ জন ,১৫-এর ৩-৪ জন বাকিরা ১৬, ১৭ এর ছিল। ১৪-এর মিনহাজ ভাই আমাদের জিজ্ঞেস করে, তোরা কে কে হল ফেস্টের টাকা দিস নাই। আমাদের রুমের কেইউ টাকা দিই নাই। আমি বললাম, ভাই, আমি হল প্রোগ্রামে থাকব না তাই টাকা দিব না। ১৪-এর বাধন ভাই বলল, হল ফেস্টে থাকিস বা না থাকিস টাকা দিতে হবে। ভাই, আমি হল ফেস্টে থাকব না, তো কেন টাকা দিব?’

‘মিনহাজ : বেয়াদব, তুই কীভাবে আমাদের মুখের ওপর এইভাবে না করতে পারিস। রুমে বড় ভাই ঢুকা সত্যেও তুই কীভাবে পড়তেছিস? (আমার ল্যাপটপ কোড রান করার জন্য ওপেন ছিল)। তুই কীভাবে এই হলে থাকিস আমি দেখে নিব। ফাহিম ওর সব কিছু নামা রুম থেকে।’

‘ফাহিম, ফাহিম বলে চিল্লাইয়া রুম থেকে চলে গেছে। ১৪-এর সবাই আমার ওপর চিল্লাচ্ছিল তখন কীভাবে আমি এইভাবে না করতে পারলাম। চিল্লানোর সাথে সাথে এত অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতেছিল যে এই ধরনের গালি আমি জীবনে মুখেও আনতে পারব না। কিছুক্ষণ পর মেহেদি আর কায়েদ আমার রুমে ঢুকে জিজ্ঞেস করল, কী বলছিলাম আমি। আমি বললাম যে, ভাই, আমি হল কনসার্টে থাকব না, তাই টাকা দিব না। মেহেদি বলল, তোর এইভাবে বলা উচিত হয়নি।’