ঘোড়াঘাটে কন্যাশিশুর সুরক্ষা কোথায়? বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে শৈশব, প্রশ্নের মুখে নজরদারি
ঘোড়াঘাটে কন্যাশিশুর সুরক্ষা কোথায়? বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে শৈশব, প্রশ্নের মুখে নজরদারি
- আপডেট সময় : ১১:০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

শৈশব মানে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা, স্বপ্ন দেখার অবাধ সময়। অথচ সেই শৈশবেই কোনো কোনো কন্যাশিশুর জীবনে নেমে আসে সংসারের দায়িত্ব। পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই বিয়ে, নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ হারানো, অল্প বয়সে মাতৃত্বের ঝুঁকিবাল্যবিবাহ একটি শিশুর জীবনকে ঠেলে দিতে পারে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার দিকে। কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় আইন, সরকারি কর্মসূচি ও সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ থাকলেও প্রশ্ন উঠছে—বাল্যবিবাহের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যাচ্ছে কতটা?
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় কন্যাশিশুর সুরক্ষা, শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্বের দাবি রাখে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবার, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিশু এবং সামাজিক চাপের মুখে থাকা কিশোরীদের ক্ষেত্রে সুরক্ষাব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা সরেজমিন অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
শৈশবের বদলে বিয়ের প্রস্তুতি
গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহের ঝুঁকির পেছনে দারিদ্র্য, সামাজিক প্রথা, নিরাপত্তাহীনতা, শিক্ষার ব্যয় এবং মেয়েশিশুকে পরিবারের বোঝা হিসেবে দেখার মানসিকতা ভূমিকা রাখতে পারে। কোথাও অর্থনৈতিক সংকট, কোথাও লোকলজ্জা বা সামাজিক চাপ—বিভিন্ন কারণকে সামনে রেখে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন অভিভাবকেরা।
কিন্তু এসব কারণ কোনোভাবেই শিশুর অধিকার হরণকে বৈধতা দেয় না। একটি মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেওয়া বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী সাধারণভাবে বাল্যবিবাহের আওতায় পড়ে। আইনে নির্ধারিত বিশেষ বিধানের প্রয়োগও নির্দিষ্ট শর্ত ও আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সম্পর্কিত; এটি বাল্যবিবাহের সাধারণ অনুমতি নয়।
শৈশব মানে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা, স্বপ্ন দেখার অবাধ সময়। অথচ সেই শৈশবেই কোনো কোনো কন্যাশিশুর জীবনে নেমে আসে সংসারের দায়িত্ব। পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই বিয়ে, নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ হারানো, অল্প বয়সে মাতৃত্বের ঝুঁকিবাল্যবিবাহ একটি শিশুর জীবন
শৈশবের বদলে বিয়ের প্রস্তুতি
গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহের ঝুঁকির পেছনে দারিদ্র্য, সামাজিক প্রথা, নিরাপত্তাহীনতা, শিক্ষার ব্যয় এবং মেয়েশিশুকে পরিবারের বোঝা হিসেবে দেখার মানসিকতা ভূমিকা রাখতে পারে। কোথাও অর্থনৈতিক সংকট, কোথাও লোকলজ্জা বা সামাজিক চাপ—বিভিন্ন কারণকে সামনে রেখে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন অভিভাবকেরা।
কিন্তু এসব কারণ কোনোভাবেই শিশুর অধিকার হরণকে বৈধতা দেয় না। একটি মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেওয়া বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী সাধারণভাবে বাল্যবিবাহের আওতায় পড়ে। আইনে নির্ধারিত বিশেষ বিধানের প্রয়োগও নির্দিষ্ট শর্ত ও আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সম্পর্কিত; এটি বাল্যবিবাহের সাধারণ অনুমতি নয়।
বাল্যবিবাহের পরিণতি শুধু একটি বিয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া, আর্থিকভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া, পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি এবং অল্প বয়সে গর্ভধারণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি একটি কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎকে জটিল করে তুলতে পারে।
প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নজরদারি
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং স্থানীয় সমাজের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হয়ে পড়লে, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চললে কিংবা জন্মনিবন্ধনের বয়স নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
কন্যাশিশুর শৈশব কোনো সামাজিক চাপ, দারিদ্র্য কিংবা অবহেলার কাছে পরাজিত হতে পারে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের সাফল্য কেবল একটি বিয়ে বন্ধ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিশুটিকে নিরাপদ রাখা, শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ নিশ্চিত করাই প্রকৃত সাফল্য।
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন উপজেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, শিক্ষা বিভাগ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কার্যক্রমের তথ্য যাচাই। শুধু সচেতনতামূলক সভা, ব্যানার কিংবা দিবসকেন্দ্রিক প্রচার দিয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের সাফল্য পরিমাপ করা সম্ভব নয়। কতটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, কতটি বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে, কতজন শিশুকে পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে—এসব তথ্যই কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারে।
কন্যাশিশুর সুরক্ষা শুধু পরিবারের দায় নয়
কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেবল মা-বাবার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামাজিক নেতৃত্বকে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা শিশুর পরিবারকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহায়তার আওতায় আনা জরুরি, যাতে দারিদ্র্য বা নিরাপত্তার অজুহাতে শিশুর ভবিষ্যৎ বন্ধ হয়ে না যায়।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই, বিদ্যালয়ভিত্তিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা এবং বিয়ে বন্ধের পর শিশুর নিয়মিত খোঁজ নেওয়া কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা চালু রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই, বিদ্যালয়ভিত্তিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা এবং বিয়ে বন্ধের পর শিশুর নিয়মিত খোঁজ নেওয়া কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা চালু রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রশাসনের জবাবদিহি কোথায়?
ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রশাসনের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ: উপজেলায় গত এক বছরে বাল্যবিবাহের কতটি অভিযোগ পাওয়া গেছে? কতটি বিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? ঝুঁকিপূর্ণ কন্যাশিশুদের শনাক্ত করতে ইউনিয়নভিত্তিক কোনো তালিকা বা সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা রয়েছে কি? বাল্যবিবাহ বন্ধের পর সংশ্লিষ্ট শিশুদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছেও জানতে হবে, কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে চলমান কর্মসূচি, উপকারভোগীর সংখ্যা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের বাস্তব ফলাফল কী। উপজেলা শিক্ষা বিভাগের কাছে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন—বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া কন্যাশিশুদের শনাক্ত ও পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে কী ব্যবস্থা রয়েছে।























