সংবাদ শিরোনাম ::
আদালত চত্বরে ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু বাবুগঞ্জে গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় কলেজ শিক্ষক আটক, সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানচর্চার বাতিঘর স্পিকার আ. জব্বার খান স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি আমার কী অপরাধ?”—পদ স্থগিতাদেশে ঝালকাঠি শহরজুড়ে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ ঝালকাঠির রাজাপুর ও নলছিটিতে ইয়াবা ও গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩ সাংবাদিকদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অন্যায় -অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান সাংবাদিককে চোখ উপড়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে.. মসজিদের কাজেও পার্সেন্টেজ দিতেহয় অফিস সহকারীকে ঘোড়াঘাটে ফুটবল খেলার মাঠ রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ ঘোড়াঘাট একাধিক মাদক মামলার আসামি সুজনের মুক্তির দাবিতে হট্টগোল করে পুলিশের কাজে বাধা,গ্রেপ্তার ৩৪

একাধিক মাদক মামলার আসামি সুজনের মুক্তির দাবিতে হট্টগোল করে পুলিশের কাজে বাধা,গ্রেপ্তার ৩৪

একাধিক মাদক মামলার আসামি সুজনের মুক্তির দাবিতে হট্টগোল করে পুলিশের কাজে বাধা,গ্রেপ্তার ৩৪

আব্দুর রহিম রিয়াদ,(ডিমলা( নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একাধিক মাদক মামলার আসামি মাদক সম্রাট সুজন ইসলামকে আদালতে নেওয়ার সময় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও মুক্ত করার দাবিতে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ, হট্টগোল এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ৩৪ জনকে রোববার (৪ অক্টোবর) আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে সৈয়দপুর উপজেলার পুরাতন বাবুপাড়া এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী সুজন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, ডিমলা উপজেলার পূর্ব দোহলপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে সুজন ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নীলফামারী সদর ও ডিমলা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার দারুস সালাম থানাসহ বিভিন্ন থানায়ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

সুজনকে গ্রেপ্তারের পর গত শনিবার বিকেলে আদালতে নেওয়ার সময় তার স্বজন ও ভাড়াটে লোকজন নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও হট্টগোল করেন। এ সময় তারা পুলিশের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে আটক করে। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আটক ২০ জনসহ মামলায় মোট ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার ৩৪ জন হলেন—ডিমলার দোহলপাড়ার আবু সাঈদ (৩০), ছাতনাই কলোনি মিয়াপাড়ার শফিকুল ইসলাম ওরফে লেবু (৪৫), পূর্ব ছাতনাই মিয়াপাড়ার নুরুজ্জামান (৫০), ছাতনাই বালাপাড়ার আফজাল হোসেন (৪৫), খগাখড়িবাড়ীর সাইফুল ইসলাম (৩২), পূর্ব ছাতনাই ওমরপাড়ার হৃদয় ইসলাম (২২), সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ীর সাকিরা (২০), দোহলপাড়ার মিরাজ ইসলাম (১৮), ওমরপাড়ার মিলন ইসলাম (১৯), আরিফুল ইসলাম (১৯), বন্দর খড়িবাড়ীর সাগর দেবনাথ (২২), ওমরপাড়ার নাঈম ইসলাম (১৯), বন্দর খড়িবাড়ীর মশিউর আলম (৩৬), নাইমুল ইসলাম (২২), ছাতনাই কলোনির সামিনুর ইসলাম (৪৫) ও আঃ সালাম (২৫), দোহলপাড়ার মঞ্জুয়ারা বেগম (৪০), বন্দর খড়িবাড়ীর লিপন ইসলাম (১৯), ডিমলা টিএনটি রোডের মিম হোসেন (২০), পূর্ব ছাতনাই কলোনির শুভ ইসলাম (১৯), দোহলপাড়ার আশিকুল ইসলাম (৩৫), গুলজার রহমান (৪৫), খগাখড়িবাড়ীর শহিদুল ইসলাম (৪৫), বড়বাড়ি খগাখড়িবাড়ীর আলাউদ্দিন (৫০), ডংগর বাজার খগাখড়িবাড়ীর মাহফুজার রহমান (১৯) ও সোহেল (২১), বন্দর খড়িবাড়ীর আনোয়ার হোসেন (১৯) ও ইসলাম (৬৫), সাগর রহমান (২৩), ডংগর বাজারের কবিরুল ইসলাম (২৫), খগাখড়িবাড়ীর মহিকুল ইসলাম (২৫), বন্দর বাজার ডংগর খড়িবাড়ীর নুরবান (৫০), খগাখড়িবাড়ী চাবুলের পাড়ার দুলালী বেগম (৩৫) এবং দেহলপাড়ার রিমু (৩৫)।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সুজন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে থাকা মাদক মামলাগুলোর পাশাপাশি অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তার সম্পদ বৃদ্ধির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত।কেনো না দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়ে বৈধ কোনো ব্যবসা ছাড়া সুজনের এত অর্থ-সম্পদের উৎস কোথায়। সুজন তার বাবাকে ইউপি সদস্য হিসেবে বিজয়ী করতে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছিলেন যা উপজেলা জুড়ে সেই সময় আলোরন সৃষ্টি করেছিলো।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, “পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০ জনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আটক ২০ জনসহ মোট ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

একাধিক মাদক মামলার আসামি সুজনের মুক্তির দাবিতে হট্টগোল করে পুলিশের কাজে বাধা,গ্রেপ্তার ৩৪

একাধিক মাদক মামলার আসামি সুজনের মুক্তির দাবিতে হট্টগোল করে পুলিশের কাজে বাধা,গ্রেপ্তার ৩৪

আপডেট সময় : ০৬:৩২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

একাধিক মাদক মামলার আসামি মাদক সম্রাট সুজন ইসলামকে আদালতে নেওয়ার সময় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও মুক্ত করার দাবিতে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ, হট্টগোল এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ৩৪ জনকে রোববার (৪ অক্টোবর) আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে সৈয়দপুর উপজেলার পুরাতন বাবুপাড়া এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী সুজন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, ডিমলা উপজেলার পূর্ব দোহলপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে সুজন ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নীলফামারী সদর ও ডিমলা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার দারুস সালাম থানাসহ বিভিন্ন থানায়ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

সুজনকে গ্রেপ্তারের পর গত শনিবার বিকেলে আদালতে নেওয়ার সময় তার স্বজন ও ভাড়াটে লোকজন নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও হট্টগোল করেন। এ সময় তারা পুলিশের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে আটক করে। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আটক ২০ জনসহ মামলায় মোট ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার ৩৪ জন হলেন—ডিমলার দোহলপাড়ার আবু সাঈদ (৩০), ছাতনাই কলোনি মিয়াপাড়ার শফিকুল ইসলাম ওরফে লেবু (৪৫), পূর্ব ছাতনাই মিয়াপাড়ার নুরুজ্জামান (৫০), ছাতনাই বালাপাড়ার আফজাল হোসেন (৪৫), খগাখড়িবাড়ীর সাইফুল ইসলাম (৩২), পূর্ব ছাতনাই ওমরপাড়ার হৃদয় ইসলাম (২২), সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ীর সাকিরা (২০), দোহলপাড়ার মিরাজ ইসলাম (১৮), ওমরপাড়ার মিলন ইসলাম (১৯), আরিফুল ইসলাম (১৯), বন্দর খড়িবাড়ীর সাগর দেবনাথ (২২), ওমরপাড়ার নাঈম ইসলাম (১৯), বন্দর খড়িবাড়ীর মশিউর আলম (৩৬), নাইমুল ইসলাম (২২), ছাতনাই কলোনির সামিনুর ইসলাম (৪৫) ও আঃ সালাম (২৫), দোহলপাড়ার মঞ্জুয়ারা বেগম (৪০), বন্দর খড়িবাড়ীর লিপন ইসলাম (১৯), ডিমলা টিএনটি রোডের মিম হোসেন (২০), পূর্ব ছাতনাই কলোনির শুভ ইসলাম (১৯), দোহলপাড়ার আশিকুল ইসলাম (৩৫), গুলজার রহমান (৪৫), খগাখড়িবাড়ীর শহিদুল ইসলাম (৪৫), বড়বাড়ি খগাখড়িবাড়ীর আলাউদ্দিন (৫০), ডংগর বাজার খগাখড়িবাড়ীর মাহফুজার রহমান (১৯) ও সোহেল (২১), বন্দর খড়িবাড়ীর আনোয়ার হোসেন (১৯) ও ইসলাম (৬৫), সাগর রহমান (২৩), ডংগর বাজারের কবিরুল ইসলাম (২৫), খগাখড়িবাড়ীর মহিকুল ইসলাম (২৫), বন্দর বাজার ডংগর খড়িবাড়ীর নুরবান (৫০), খগাখড়িবাড়ী চাবুলের পাড়ার দুলালী বেগম (৩৫) এবং দেহলপাড়ার রিমু (৩৫)।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সুজন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে থাকা মাদক মামলাগুলোর পাশাপাশি অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তার সম্পদ বৃদ্ধির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত।কেনো না দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়ে বৈধ কোনো ব্যবসা ছাড়া সুজনের এত অর্থ-সম্পদের উৎস কোথায়। সুজন তার বাবাকে ইউপি সদস্য হিসেবে বিজয়ী করতে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছিলেন যা উপজেলা জুড়ে সেই সময় আলোরন সৃষ্টি করেছিলো।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, “পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০ জনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আটক ২০ জনসহ মোট ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।