সংবাদ শিরোনাম ::
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল ৫০৬ কোটি টাকা আখ গাছের ফলন ও পরিচর্যা দেখতে চাষীর জমিতে কেরুজ এমডি পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের বাহিরে দুই শিক্ষার্থী, অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর ঘোড়াঘাটে ৩৬টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা ঘোড়াঘাটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ১২০ বস্তা চাল জব্দ ব্যবসায়ী আটক মধ্য ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা। আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ঝালকাঠি পৌর বিএনপির বিক্ষোভ সেই শিশুকন্যার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও,বাবারও হবে কর্মসংস্থান ঘোড়াঘাটে স্বামীকে ফিরে পেতে স্ত্রী সন্তানদের আকুতি থানায় ডায়েরি চুয়াডাঙ্গায় ৩২ তম পুলিশ সুপার হিসেবে যশোরের মেহেদী শাহরিয়ার এর দায়িত্বভার গ্রহণ

ঘোড়াঘাটে ৩৬টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা

ঘোড়াঘাটে ৩৬টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ঘোড়ঘাটে ৩৬ টি পূজা মন্ডপে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব পালন অনুষ্ঠিত হবে। ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নং সিংড়া ইউনিয়নে ১৫ টি, বুলাকীপুর ইউনিয়নে ৬টি, পালশা ইউনিয়নে ৪টি ও ঘোড়াঘাট পৌরসভায় ১১ টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
অপেক্ষায় দিন গুনছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা।
কোনো কোনো মন্ডপে প্রতিমার তৈরীর কাজ প্রায় শেষ। অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সব চেয়ে বড় দুর্গোৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে উৎসবের আমেজ।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কোন কোন মন্তব্য চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি। আর প্রতিমা তৈরির কারিগরদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। খড়, বাঁশ, মাটি, রং ও তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাম্বলীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার। শেষ হবে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে।

সরেজমিনে ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার পূজা মন্ডপে গিয়ে দেখা যায়, পূজামণ্ডপের প্রতিমাশিল্পীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ প্রতিমার শরীরে মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন, কেউ করছেন সূক্ষ্ম কারুকাজ। আবার কেউ ব্যস্ত দেব-দেবীর মুখাবয়ব, চোখ, চুল ও অলংকারের কাজ নিয়ে। প্রতিমার গায়ে রং লাগানোর পাশাপাশি চলছে সিংহ, অসুর, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর সাজসজ্জার কাজও।
প্রতিমাশিল্পী সুমন রায় জানান, একটি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরির মাধ্যমে। এরপর কয়েক ধাপে মাটি দেওয়া, শুকানো, মসৃণ করা এবং রং করার কাজ সম্পন্ন করতে হয়। তিনি বলেন, ‘‘সময়মতো প্রতিমা তৈরি করে মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। শেষ সময়ে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়।’’এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিমা তৈরীর কাজ সম্পন্ন করা হবে।

শুধু প্রতিমা নয়, জড়িয়ে আছে বহু মানুষের জীবিকা দুর্গাপূজাকে ঘিরে শুধু প্রতিমাশিল্পীরাই নন, বাঁশ-খড় ব্যবসায়ী, মৃৎশিল্পী, রং বিক্রেতা, ডেকোরেটর, আলোকসজ্জাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মব্যস্ততাও বেড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এলাকায় সাময়িকভাবে হলেও একটি অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আশাপূর্ণ ব্যানার্জি বলেন, ‘‘প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন সবাই পূজার দিনগুলোর অপেক্ষায়।’’
আরেক বাসিন্দা [বিজন বিহারী বলেন, ‘‘দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি এলাকার মানুষের মধ্যে মিলন ও সম্প্রীতিরও একটি বড় উপলক্ষ।’’

শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও বাঁশের কাঠামো তৈরি হচ্ছে, কোথাও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ। আবার কোথাও বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমাশিল্পীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে এখন তাদের কর্মঘণ্টাও বেড়েছে।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বিষ্ণুপদ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক স্বরূপ কুমার সাহা বলেন, ‘‘প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তার বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।’’
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ
উৎসবকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হতে পারে। ফলে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সংযোগ, যান চলাচল এবং রাতের বেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রত্যাশা করছেন।পুজাকে কেন্দ্র করে মন্ডপে কঠোরনিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানান প্রশাসন।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন বলেন, ‘‘শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হাসান বলেন, ‘‘পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

সবশেষে, প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে—দ্বারপ্রান্তে শারদীয় দুর্গোৎসব। মাটির প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড় পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষার অবসান ঘটবে। ঢাকের বাদ্য, ধূপের গন্ধ আর আলোকসজ্জায় মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপ।

তবে উৎসবের সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্টদের বড় দায়িত্ব।ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৩৬টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে মন্ডপ

গুলোতে পুলিশের পাশাপাশি আনছার, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। আশা করছি, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঘোড়াঘাটে ৩৬টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা

ঘোড়াঘাটে ৩৬টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা

আপডেট সময় : ১২:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের ঘোড়ঘাটে ৩৬ টি পূজা মন্ডপে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব পালন অনুষ্ঠিত হবে। ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নং সিংড়া ইউনিয়নে ১৫ টি, বুলাকীপুর ইউনিয়নে ৬টি, পালশা ইউনিয়নে ৪টি ও ঘোড়াঘাট পৌরসভায় ১১ টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
অপেক্ষায় দিন গুনছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা।
কোনো কোনো মন্ডপে প্রতিমার তৈরীর কাজ প্রায় শেষ। অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সব চেয়ে বড় দুর্গোৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে উৎসবের আমেজ।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কোন কোন মন্তব্য চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি। আর প্রতিমা তৈরির কারিগরদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। খড়, বাঁশ, মাটি, রং ও তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাম্বলীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার। শেষ হবে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে।

সরেজমিনে ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার পূজা মন্ডপে গিয়ে দেখা যায়, পূজামণ্ডপের প্রতিমাশিল্পীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ প্রতিমার শরীরে মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন, কেউ করছেন সূক্ষ্ম কারুকাজ। আবার কেউ ব্যস্ত দেব-দেবীর মুখাবয়ব, চোখ, চুল ও অলংকারের কাজ নিয়ে। প্রতিমার গায়ে রং লাগানোর পাশাপাশি চলছে সিংহ, অসুর, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর সাজসজ্জার কাজও।
প্রতিমাশিল্পী সুমন রায় জানান, একটি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরির মাধ্যমে। এরপর কয়েক ধাপে মাটি দেওয়া, শুকানো, মসৃণ করা এবং রং করার কাজ সম্পন্ন করতে হয়। তিনি বলেন, ‘‘সময়মতো প্রতিমা তৈরি করে মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। শেষ সময়ে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়।’’এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিমা তৈরীর কাজ সম্পন্ন করা হবে।

শুধু প্রতিমা নয়, জড়িয়ে আছে বহু মানুষের জীবিকা দুর্গাপূজাকে ঘিরে শুধু প্রতিমাশিল্পীরাই নন, বাঁশ-খড় ব্যবসায়ী, মৃৎশিল্পী, রং বিক্রেতা, ডেকোরেটর, আলোকসজ্জাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মব্যস্ততাও বেড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এলাকায় সাময়িকভাবে হলেও একটি অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আশাপূর্ণ ব্যানার্জি বলেন, ‘‘প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন সবাই পূজার দিনগুলোর অপেক্ষায়।’’
আরেক বাসিন্দা [বিজন বিহারী বলেন, ‘‘দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি এলাকার মানুষের মধ্যে মিলন ও সম্প্রীতিরও একটি বড় উপলক্ষ।’’

শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও বাঁশের কাঠামো তৈরি হচ্ছে, কোথাও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ। আবার কোথাও বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমাশিল্পীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে এখন তাদের কর্মঘণ্টাও বেড়েছে।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বিষ্ণুপদ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক স্বরূপ কুমার সাহা বলেন, ‘‘প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তার বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।’’
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ
উৎসবকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হতে পারে। ফলে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সংযোগ, যান চলাচল এবং রাতের বেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রত্যাশা করছেন।পুজাকে কেন্দ্র করে মন্ডপে কঠোরনিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানান প্রশাসন।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন বলেন, ‘‘শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হাসান বলেন, ‘‘পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

সবশেষে, প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে—দ্বারপ্রান্তে শারদীয় দুর্গোৎসব। মাটির প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড় পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষার অবসান ঘটবে। ঢাকের বাদ্য, ধূপের গন্ধ আর আলোকসজ্জায় মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপ।

তবে উৎসবের সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্টদের বড় দায়িত্ব।ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৩৬টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে মন্ডপ

গুলোতে পুলিশের পাশাপাশি আনছার, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। আশা করছি, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন।