চুয়াডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে জামায়াতের ২ এমপির সংবাদ সম্মেলন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
চুয়াডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে জামায়াতের ২ এমপির সংবাদ সম্মেলন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
- আপডেট সময় : ১২:০৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা জেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দু এমপি।
বুধবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জামায়াতের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. রুহুল আমিন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ পারভেজ রাসেলসহ দলের স্থানীয় একাধিক শীর্ষনেতা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৬ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলায় মোট ৪৫টি সার ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪২টি আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে—সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয়করণ ও অসচ্ছ উপায়ে প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীদের বঞ্চিত করার পাঁয়তারা চলছে।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সার ডিলার নিয়োগে যোগ্য যোগ্যতা, দক্ষতা, গুদাম ও আর্থিক সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটে থাকলে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে হবে এবং প্রমান সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা।
নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদাম সুবিধা যাচাই-বাছাই করা। নিয়োগের নির্ধারিত মানদণ্ড ও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ্যে প্রকাশ করা। বঞ্চিত বা সংক্ষুব্ধ আবেদনকারীদের অভিযোগ করার সুনির্দিষ্ট সুযোগ দেওয়া। অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তদন্ত চলাকালে প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রদান করা।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের কারণে ভবিষ্যতে কৃত্রিম সার সংকট ও কৃষকদের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো দলীয় পরিচয় বা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগ দিতে হবে, যেন প্রান্তিক কৃষকরা নির্ধারিত মূল্যে সঠিক সময়ে সার পান।
























