নবাবগঞ্জে সড়কে ডাকাতি: ডিবির জালে ৮ সদস্য, উদ্ধার ১২ লাখ টাকার মালামাল
নবাবগঞ্জে সড়কে ডাকাতি: ডিবির জালে ৮ সদস্য, উদ্ধার ১২ লাখ টাকার মালামাল
- আপডেট সময় : ০৬:৩২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় সড়কে গাছ ফেলে যানবাহনের গতিরোধ করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, দুটি ল্যাপটপ,বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোনসহ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের এ অভিযানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে নবাবগঞ্জের সড়কে সংঘটিত এ ডাকাতির ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সড়কে গাছ ফেলে যানবাহনে ডাকাতি প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়,গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত সোয়া ১টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া দাউদপুর সড়কের মাহমুদপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকায় ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। রাতের নির্জন সড়কে একদল ডাকাত গাছ ফেলে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলরত যানবাহনগুলো বাধার মুখে পড়ে। এ সুযোগে ডাকাত দলের সদস্যরা চালক,সহকারী ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং মারধর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যানসহ মোট চারটি যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। রাতের অন্ধকারে সংঘটিত এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যানবাহনের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সড়কে গাছ ফেলে এভাবে যানবাহনের গতিরোধ করে মালামাল লুটের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।অভিযোগের পর তদন্তে নামে পুলিশ ও ডিবি ঘটনার পর সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান চালান। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের এ অভিযানে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার হওয়ায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কীভাবে ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিলেন,তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং লুণ্ঠিত অন্য কোনো মালামাল রয়েছে কি না,সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ল্যাপটপ,বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ও দেশীয় অস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ এবং ইনফিনিক্স,অপো,ভিভো,অনার ও স্যামসাং ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন। এ ছাড়া একটি ম্যাক্সটেল ব্র্যান্ডের বাটন ফোন,একটি চাপাতি ও একটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। বিশেষ করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধারের ঘটনাটি ডাকাতির মালামাল শনাক্ত ও প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার করা মালামালের প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সেগুলো হস্তান্তরের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।আরও কেউ জড়িত থাকলে আইনের আওতায় আনা হবে প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন জানান,নবাবগঞ্জের সড়কে ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করেছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও জানান,গ্রেপ্তার করা আটজনকে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিনবাবগঞ্জের ভাদুরিয়া-দাউদপুর সড়কে গাছ ফেলে যানবাহন থামিয়ে ডাকাতির এ ঘটনা রাতের সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী যানবাহন, কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যান ও দূরপাল্লার যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।সব মিলিয়ে,নবাবগঞ্জে সড়কে ডাকাতির ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার এবং প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধারের ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এখন তদন্তের মাধ্যমে ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা,লুণ্ঠিত মালামালের মালিকানা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




















