১৫ বছর ধরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা! ভুয়া চিকিৎসক কে জরিমানা
১৫ বছর ধরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা! ভুয়া চিকিৎসক কে জরিমানা
- আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

চোখের সমস্যা আর মাথাব্যথা নিয়ে চিকিৎসার খোঁজে বেরিয়েছিলেন সালেহা বেগম। এক দালালের কাছে জানতে পারেন, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকায় এমন এক চিকিৎসক আছেন, যিনি যন্ত্রের সাহায্যে সব ধরনের রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেন। সেই কথায় বিশ্বাস করে ওই ব্যক্তির কাছে যান তিনি। সেখানে ডিভাইসে হাত রেখে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেন সালেহা। কিন্তু পরে জানতে পারেন, চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির যোগ্যতা ও কাগজপত্রই ভুয়া।
সালেহা বেগমের মতো হাজারো সাধারণ মানুষের সঙ্গে চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের দাবি করে প্রায় ১৫ বছর ধরে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখে আসছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার একটি ফার্মেসিতে রোগী দেখার সময় উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়েন তিনি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে আলীমুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তার ব্যবহৃত চিকিৎসার সরঞ্জাম ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়। চিকিৎসক হিসেবে নিজের যোগ্যতার পক্ষে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আলীমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখে আসছিলেন। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকাতেও নিয়মিত রোগী দেখতেন তিনি।
তার ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে ‘ডা.’ লিখে চিকিৎসক পরিচয় দিতেন। ব্যবস্থাপত্রে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্যও উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলে দাবি করতেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের কথা বলে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দিতেন তিনি। তার এসব যোগ্যতা ও কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
যাচাইয়ে মিলেছে ভুয়া কাগজপত্র। খবর পেয়ে রোববার রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে অভিযান চালান। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) তামিম মল্লিক ও মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী উপস্থিত ছিলেন।
মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী বলেন, খবর পেয়ে ইউএনওর সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করি। তার দেখানো কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আলীমুল ইসলাম ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু তিনি বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
ইউএনও আরও বলেন, তাকে প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ সময় চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
প্রতারক ও ভুয়া চিকিৎসক আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে বলে তার জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে জানা গেছে।






















