সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে ৫ম বীর বাহা ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হৃদয় যুব সংঘ ঘোড়াঘাট পৌরসভায় ১১ টি দুর্গা মন্দিরে ৫৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছে পৌর বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগের মুখে ইশরাক গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কালকিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ সুগন্ধায় নৌ-পুলিশের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান: ৩ জেলে আটক বিষখালী নদীতে যৌথ অভিযান: ২০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ, এতিমখানায় মাছ বিতরণ ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী এএসআইয়ের জিডি, অতঃপর বদলি বরিশাল পুলিশে তোলপাড়! কলকাতার দুর্গাপুজায় ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা, নিহত ১০, আহত ২৫ ঝালকাঠিতে বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের ১৩৩তম তিরোধান দিবস পালিত ​ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী এএসআইয়ের জিডি, অতঃপর বদলি বরিশাল পুলিশে তোলপাড়!

ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী এএসআইয়ের জিডি, অতঃপর বদলি বরিশাল পুলিশে তোলপাড়!

আজকের ক্রাইম ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০১:২০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এক নারী সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) থানার ভেতরে অপমানজনক ও অশালীন ভাষায় কথা বলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এএসআই শাহনাজ আক্তার গত ৯ সেপ্টেম্বর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে সরিয়ে বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বিভাগের ভেতরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের হাতে আশা এএসআই শাহনাজ আক্তারের করা জিডির একটি অনুলিপিতে উল্লেখ করা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনাটির বিভিন্ন দিক সামনে এসেছে।

জিডিতে শাহনাজ আক্তার উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে ওসি মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমান (৪০) থানায় এসে তাঁকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। সে সময় শাহনাজ থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আঞ্জুমান তাঁর রাতের বেলায় ওসির কক্ষে যাতায়াত এবং চাকরিতে আসা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে তিনি মানসিকভাবে বিব্রত ও অপমানিত বোধ করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন।

জিডিতে এর আগের আরেকটি ঘটনারও বিবরণ দিয়েছেন শাহনাজ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত মার্চে ভাইয়ের বিয়ের জন্য জরুরি ছুটির প্রয়োজন হলে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ছুটির ব্যবস্থা করতে থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ওসির অর্ডারলির মাধ্যমে ছুটির অনুমতি নিয়ে আবেদন করেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে তিনি জানতে পারেন, থানায় কর্মরত আরেক এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে ওসির স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ওসির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছিলেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে রাত কাটানোর সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে তিনি জানতে পারেন। তবে এসব কথা তিনি নিজে সরাসরি শোনেননি বলে জিডির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওসির স্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি অশালীন কথাবার্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ভবিষ্যতের প্রয়োজনে তিনি জিডি করেন।

এ বিষয়ে এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারবেন না। তবে তাঁকে যে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে, তা সত্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ওসির কারণে নিজেও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এএসআই শাহনাজ আক্তারও জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি থানার অভ্যন্তরীণ হওয়ায় এ নিয়ে বিস্তারিত বলতে চান না। তবে জিডি-সংক্রান্ত তথ্য সঠিক বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে, ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করার পর শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়। পাশাপাশি ওসি মাসুদ খান জরুরি ছাড়পত্র দিয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন থানায় বদলি করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব বদলির সঙ্গে জিডির কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ খান অভিযোগ অস্বীকার করেন। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটা ভুল তথ্য, এগুলো কে ছড়ায়? এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ঘটনাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্প্রতি বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে তলব করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের কারণ জানতে চান। পরে তাঁকে লিখিত বার্তা পাঠানো হলেও তিনি আর কোনো জবাব দেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

সুত্র: জাগো নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী এএসআইয়ের জিডি, অতঃপর বদলি বরিশাল পুলিশে তোলপাড়!

ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী এএসআইয়ের জিডি, অতঃপর বদলি বরিশাল পুলিশে তোলপাড়!

আপডেট সময় : ০১:২০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এক নারী সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) থানার ভেতরে অপমানজনক ও অশালীন ভাষায় কথা বলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এএসআই শাহনাজ আক্তার গত ৯ সেপ্টেম্বর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে সরিয়ে বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বিভাগের ভেতরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের হাতে আশা এএসআই শাহনাজ আক্তারের করা জিডির একটি অনুলিপিতে উল্লেখ করা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনাটির বিভিন্ন দিক সামনে এসেছে।

জিডিতে শাহনাজ আক্তার উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে ওসি মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমান (৪০) থানায় এসে তাঁকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। সে সময় শাহনাজ থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আঞ্জুমান তাঁর রাতের বেলায় ওসির কক্ষে যাতায়াত এবং চাকরিতে আসা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে তিনি মানসিকভাবে বিব্রত ও অপমানিত বোধ করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন।

জিডিতে এর আগের আরেকটি ঘটনারও বিবরণ দিয়েছেন শাহনাজ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত মার্চে ভাইয়ের বিয়ের জন্য জরুরি ছুটির প্রয়োজন হলে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ছুটির ব্যবস্থা করতে থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ওসির অর্ডারলির মাধ্যমে ছুটির অনুমতি নিয়ে আবেদন করেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে তিনি জানতে পারেন, থানায় কর্মরত আরেক এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে ওসির স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ওসির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছিলেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে রাত কাটানোর সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে তিনি জানতে পারেন। তবে এসব কথা তিনি নিজে সরাসরি শোনেননি বলে জিডির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওসির স্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি অশালীন কথাবার্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ভবিষ্যতের প্রয়োজনে তিনি জিডি করেন।

এ বিষয়ে এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারবেন না। তবে তাঁকে যে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে, তা সত্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ওসির কারণে নিজেও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এএসআই শাহনাজ আক্তারও জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি থানার অভ্যন্তরীণ হওয়ায় এ নিয়ে বিস্তারিত বলতে চান না। তবে জিডি-সংক্রান্ত তথ্য সঠিক বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে, ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করার পর শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়। পাশাপাশি ওসি মাসুদ খান জরুরি ছাড়পত্র দিয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন থানায় বদলি করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব বদলির সঙ্গে জিডির কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ খান অভিযোগ অস্বীকার করেন। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটা ভুল তথ্য, এগুলো কে ছড়ায়? এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ঘটনাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্প্রতি বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে তলব করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের কারণ জানতে চান। পরে তাঁকে লিখিত বার্তা পাঠানো হলেও তিনি আর কোনো জবাব দেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

সুত্র: জাগো নিউজ