সংবাদ শিরোনাম ::
কেদারপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান রাইসুল ইসলাম রাসেল উজিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি লিটন সম্পাদক সেন্টু দর্শনা সীমান্তে পলাতক আসামী আটক ঘোড়াঘাটে ৪ জুয়ারি আটক ভ্রাম্যমান আদালতে কারাদন্ড ও জরিমানা ঘোড়াঘাট এলাকায় অভিযান প্রকাশ্যে জুয়া বন্ধে কঠোর বার্তা ভান্ডারিয়ায় মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধ মঞ্চের ৩ মাসের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন বরিশালে ঋণের চাঁপ সইতে না পেরে চা দোকানির আত্মহত্যা ৮ অক্টোবর থেকে নদীতে ও সমুদ্রে মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের মাঝে উদ্বেগ বাবুগঞ্জে খাবারে চেতনানাশক মেশানোর সন্দেহে বৃদ্ধাকে পিটিয়ে আহত, থানায় অভিযোগ ঝালকাঠিতে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, আদি ইসলামিয়া মিষ্টান্নকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

৮ অক্টোবর থেকে নদীতে ও সমুদ্রে মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের মাঝে উদ্বেগ

৮ অক্টোবর থেকে নদীতে ও সমুদ্রে মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের মাঝে উদ্বেগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুয়াকাটা প্রতিনিধি মোঃ নাঈম হাওলাদার।

প্রধান প্রজনন মৌসুম ও ইলিশ সংরক্ষণে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে কলাপাড়া ও মহিপুর উপকূলীয় এলাকার জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। মাছ ধরা বন্ধ হলে আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে যাবে—অথচ অনেকের মাথায় রয়েছে ঋণের বোঝা।

জেলেরা জানান, এবারের মৌসুমে নদীতে ইলিশের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত আয় হয়নি। নৌকা ও জাল নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে অনেকেই জ্বালানি, বরফ, খাবারসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে ধারদেনা করেছেন। এখন ২২ দিন মাছ ধরতে না পারায় সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবারের খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের জেলে রাসেল হাওলাদার বলেন, “এ বছর নদীতে তেমন ইলিশ পাইনি। যা আয় হয়েছে, তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়েছে। এখন ২২ দিন মাছ ধরতে পারব না। হাতে কোনো টাকা নেই, ঋণও আছে। এই সময়টা কীভাবে পরিবার নিয়ে কাটাব, সেটাই চিন্তার বিষয়।”

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি খাদ্য সহায়তার কথা থাকলেও অনেকে এখনো তা হাতে পাননি। ফলে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। অনিবন্ধিত জেলেদের দুর্ভোগ আরও বেশি; সরকারি সহায়তার তালিকায় না থাকায় তাদের পুরো সময়টিই কাটাতে হবে কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই।

কলাপাড়া মৎস্য ব্যবসায়ী মো.রাকিব বয়াতী বলেন, “নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন, এতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। তবে জেলেদের এই সময়ের দুর্ভোগের কথাও ভাবতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইলিশ সংরক্ষণে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।”

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন্নবী জানান, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলেদের খাদ্য সহায়তা বিতরণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবে দ্রুত তা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

৮ অক্টোবর থেকে নদীতে ও সমুদ্রে মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের মাঝে উদ্বেগ

৮ অক্টোবর থেকে নদীতে ও সমুদ্রে মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের মাঝে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০২:১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

কুয়াকাটা প্রতিনিধি মোঃ নাঈম হাওলাদার।

প্রধান প্রজনন মৌসুম ও ইলিশ সংরক্ষণে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে কলাপাড়া ও মহিপুর উপকূলীয় এলাকার জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। মাছ ধরা বন্ধ হলে আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে যাবে—অথচ অনেকের মাথায় রয়েছে ঋণের বোঝা।

জেলেরা জানান, এবারের মৌসুমে নদীতে ইলিশের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত আয় হয়নি। নৌকা ও জাল নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে অনেকেই জ্বালানি, বরফ, খাবারসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে ধারদেনা করেছেন। এখন ২২ দিন মাছ ধরতে না পারায় সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবারের খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের জেলে রাসেল হাওলাদার বলেন, “এ বছর নদীতে তেমন ইলিশ পাইনি। যা আয় হয়েছে, তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়েছে। এখন ২২ দিন মাছ ধরতে পারব না। হাতে কোনো টাকা নেই, ঋণও আছে। এই সময়টা কীভাবে পরিবার নিয়ে কাটাব, সেটাই চিন্তার বিষয়।”

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি খাদ্য সহায়তার কথা থাকলেও অনেকে এখনো তা হাতে পাননি। ফলে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। অনিবন্ধিত জেলেদের দুর্ভোগ আরও বেশি; সরকারি সহায়তার তালিকায় না থাকায় তাদের পুরো সময়টিই কাটাতে হবে কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই।

কলাপাড়া মৎস্য ব্যবসায়ী মো.রাকিব বয়াতী বলেন, “নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন, এতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। তবে জেলেদের এই সময়ের দুর্ভোগের কথাও ভাবতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইলিশ সংরক্ষণে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।”

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন্নবী জানান, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলেদের খাদ্য সহায়তা বিতরণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবে দ্রুত তা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।