সংবাদ শিরোনাম ::
ভাণ্ডারিয়ায় ভেজাল ডিটারজেন্টবিরোধী অভিযান: দুই পিকআপসহ ৬ জন আটক, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ভাণ্ডারিয়ায় নকল-ভেজাল খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দুই কারখানায় অভিযান, ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোড়াঘাটে পূজামণ্ডপে চালের ডিও ও উপকার ভুড়দেরবিদের মাঝে চেক বিতরণ করলেন মন্ত্রী জাহিদ হোসেন জাতীয় সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় চার গ্রুপে বিজয়ী ১২ শিক্ষার্থী মাদারীপু‌রের কালকিনিতে ইয়াবাহ ৬ জন গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় ”বিজনেস অপরচুনিটি এক্সপ্লোর চুয়াডাঙ্গা”অনুষ্ঠিত কেদারপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান রাইসুল ইসলাম রাসেল উজিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি লিটন সম্পাদক সেন্টু দর্শনা সীমান্তে পলাতক আসামী আটক ঘোড়াঘাটে ৪ জুয়ারি আটক ভ্রাম্যমান আদালতে কারাদন্ড ও জরিমানা ঘোড়াঘাট এলাকায় অভিযান প্রকাশ্যে জুয়া বন্ধে কঠোর বার্তা

ভাণ্ডারিয়ায় নকল-ভেজাল খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দুই কারখানায় অভিযান, ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ভাণ্ডারিয়ায় নকল-ভেজাল খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দুই কারখানায় অভিযান, ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা

মোঃ মেহেদী হাসান পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নকল-ভেজাল খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য তৈরির দুটি কারখানায় পৃথক অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে একটি কারখানা থেকে নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে তৈরি নকল খাদ্যপণ্য, আইসক্রিম, ভেজাল মধু, ড্রিংকস ও জুস তৈরির উপকরণ, ক্ষতিকর কেমিক্যাল, অননুমোদিত রং ও ফ্লেভারসহ বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার মালিক আল আমিন হাওলাদারকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কারখানাটি সিলগালা করা হয়। একই অভিযানের অংশ হিসেবে অন্য একটি আইসক্রিম কারখানায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের লক্ষ্মীপুরা মহল্লায় সুমন মিয়ার ভাড়াটিয়া ভবনে প্রথম অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ভবনে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন পরিচিত ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে তৈরি নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্য এবং সেগুলো উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়।

অভিযানে জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে কৃষাণী চিনিগুড়া চাল, কাশ্মিরি সুগন্ধি চাল, নিউ সান আইসক্রিমের কাপ, চকবার ও কোন, রোবো আইস পপ, ভেজাল মধু, নিউ সান হোয়াইট ডিটারজেন্ট পাউডার এবং সয়াবিন তেল। এসব পণ্যের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণও জব্দ করা হয়।

কারখানাটিতে ড্রিংকস ও জুস তৈরির জন্য রাখা বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, হাই স্পিড ড্রিংক, আম ও লিচুর ক্ষতিকর ফ্লেভার এবং অননুমোদিত রং পাওয়া যায়। এ ছাড়া উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন মেশিনারিজ, চারটি রেফ্রিজারেটর ও তিনটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানকালে কারখানার মালিক আল আমিন হাওলাদারকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার বক্তব্য ও অভিযানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের স্টিমারঘাট-কাজীবাড়ি সড়কে শিমু খানের আইসক্রিম কারখানায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। সেখানে আইসক্রিম উৎপাদনের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় কারখানার উৎপাদন পরিবেশ, ব্যবহৃত উপকরণ ও সংরক্ষিত পণ্য পরীক্ষা করা হয়।

পরে প্রথম কারখানা থেকে জব্দ করা নকল ও ভেজাল পণ্য আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে ভাণ্ডারিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়। এতে নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্য যাতে পুনরায় বাজারজাত করা না যায়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।

অভিযানকালে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভাণ্ডারিয়ায় নকল-ভেজাল খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দুই কারখানায় অভিযান, ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ভাণ্ডারিয়ায় নকল-ভেজাল খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দুই কারখানায় অভিযান, ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নকল-ভেজাল খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য তৈরির দুটি কারখানায় পৃথক অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে একটি কারখানা থেকে নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে তৈরি নকল খাদ্যপণ্য, আইসক্রিম, ভেজাল মধু, ড্রিংকস ও জুস তৈরির উপকরণ, ক্ষতিকর কেমিক্যাল, অননুমোদিত রং ও ফ্লেভারসহ বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার মালিক আল আমিন হাওলাদারকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কারখানাটি সিলগালা করা হয়। একই অভিযানের অংশ হিসেবে অন্য একটি আইসক্রিম কারখানায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের লক্ষ্মীপুরা মহল্লায় সুমন মিয়ার ভাড়াটিয়া ভবনে প্রথম অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ভবনে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন পরিচিত ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে তৈরি নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্য এবং সেগুলো উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়।

অভিযানে জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে কৃষাণী চিনিগুড়া চাল, কাশ্মিরি সুগন্ধি চাল, নিউ সান আইসক্রিমের কাপ, চকবার ও কোন, রোবো আইস পপ, ভেজাল মধু, নিউ সান হোয়াইট ডিটারজেন্ট পাউডার এবং সয়াবিন তেল। এসব পণ্যের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণও জব্দ করা হয়।

কারখানাটিতে ড্রিংকস ও জুস তৈরির জন্য রাখা বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, হাই স্পিড ড্রিংক, আম ও লিচুর ক্ষতিকর ফ্লেভার এবং অননুমোদিত রং পাওয়া যায়। এ ছাড়া উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন মেশিনারিজ, চারটি রেফ্রিজারেটর ও তিনটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানকালে কারখানার মালিক আল আমিন হাওলাদারকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার বক্তব্য ও অভিযানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের স্টিমারঘাট-কাজীবাড়ি সড়কে শিমু খানের আইসক্রিম কারখানায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। সেখানে আইসক্রিম উৎপাদনের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় কারখানার উৎপাদন পরিবেশ, ব্যবহৃত উপকরণ ও সংরক্ষিত পণ্য পরীক্ষা করা হয়।

পরে প্রথম কারখানা থেকে জব্দ করা নকল ও ভেজাল পণ্য আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে ভাণ্ডারিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়। এতে নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্য যাতে পুনরায় বাজারজাত করা না যায়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।

অভিযানকালে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।