ঝালকাঠিতে একটি ধর্ষণ মামলার বিচার চলাকালে হট্টগোল ও আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন মামলার বাদী রুনু আক্তার (৩০)। আসামির সাজা না চেয়ে তাকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার অদ্ভুত দাবি তুলেছেন তিনি। এমনকি আদালতের বিচারককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, আসামির সাথে বিয়ে না দিলে ট্রাইব্যুনালে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবেন।
রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনা ঘটে। মামলার যুক্তিতর্ক চলাকালে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জানা যায়, ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হকের আদালতে মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানি চলছিল। এ সময় মামলার বাদী রুনু আক্তার বারবার হট্টগোল শুরু করলে আদালতের বিচারক, আইনজীবী ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
বিচারক বাদীকে ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বিচারে দোষী প্রমাণিত হলে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিও হতে পারে, আবার সাজাও হতে পারে।’
জবাবে রুনু আক্তার ট্রাইব্যুনালের বিচারককে বলেন, ‘আসামির সাজা হলে আমাকেও ফাঁসি দিতে হবে। আমি তার শাস্তি চাই না, তাকে চাই। তার চাকরিও ফেরত চাই।’
এ সময় বিচারক অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ‘মা, আমরা তো আসামিকে বাধ্য করতে পারব না আপনাকে বিয়ে করার জন্য। তার অপরাধ প্রমাণ হলে তাকে শাস্তি দিতে পারব।’ এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী বলেন, ‘আপনি কাজী ডেকে তার সাথে আমার বিয়ের ব্যবস্থা করেন।’ এরপর চিৎকার করে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্যার, আপনি যদি আসামি আলামিনের সাথে আমার বিয়ের ব্যবস্থা না করেন, তাহলে আমি এ জীবন রাখব না, বিষ খেয়ে আপনার সামনে আত্মহত্যা করব।’
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ১২৫/২৩ নম্বর মামলার বাদী রাজাপুর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে এবং মনির হোসেনের সাবেক স্ত্রী রুনু আক্তার। আর মামলার আসামি রাজাপুর থানার সাবেক এএসআই এবং পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার উত্তর মুরাদিয়া গ্রামের মো. ইউনুচ মোল্লার ছেলে মো. আল-আমিন মোল্লা।
২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এএসআই আল-আমিন তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন—এমন অভিযোগে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করা হয়। গত ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিকে পরীক্ষার সময় থেকেই বাদী আল-আমিনের সাথে তার বিয়ে ও কাবিননামার দাবি করতে শুরু করেন।
রবিবার যুক্তিতর্ক শুনানির দিন আসামি পক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক শুরু করলে মামলার বাদী তার ওপর চড়াও হন এবং উচ্চস্বরে হট্টগোল শুরু করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীর বলেন, ‘শুনানিকালে মামলার বাদী একাধিকবার কর্কশ ভাষায় আমার ওপরও চড়াও হয়েছেন, শুনানিতে আমাকে বারবার বেগ পেতে হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি বিচারককে হুমকি দেন যে, আসামির সাথে তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, না হলে তিনি রায়ের দিন ট্রাইব্যুনালে সবার সামনে নিজেকে শেষ করে দেবেন।’
ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার জানান, শুধু মৌখিকভাবেই নয়, বাদী রুনু আক্তার একটি লিখিত দরখাস্তের মাধ্যমেও আসামির সাথে তার বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার অবাস্তব দাবি জানিয়েছেন। সেখানেও তিনি আসামি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে পেতে ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যথায় নিজের আগের স্বামীর ঔরসজাত ছেলেসহ ট্রাইব্যুনালের সামনে আত্মহত্যার হুমকি দেন। পিপি আরও জানান, বাদী তার ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়েও তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে না পেলে তিনি কাউকেই ছাড়বেন না এবং নিজের জীবন দিয়ে সবাইকে ফাঁসিয়ে দেবেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী রুনু আক্তার বলেন, ‘আমি ধর্ষণ মামলা করেছি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে ফেরত পেতে। তাকে সাজা দিয়ে আমার কী লাভ? আমি যেকোনো মূল্যে আল-আমিনকে চাই।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ বেল্লাল তালুকদার
প্রধান কার্যালয় ফ্লাট#এ ৫ ট্রফিকাল হোম ৫৫/৫৬ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন রোড মগবাজার রমনা ঢাকা-১২১৭
মোবাইল নং- 01712573978
ই-মেইল:- ajkercrimenews@gmail.com
Copyright © 2026 আজকের ক্রাইম নিউজ. All rights reserved.