২২ Jul ২০২৪, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি, সোমবার, ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
বিয়ের দাবিতে অনশন নাটক, ৫ লাখ টাকায় রফাদফা

বিয়ের দাবিতে অনশন নাটক, ৫ লাখ টাকায় রফাদফা

আজকের ক্রাইম ডেক্স : রংপুরের মিঠাপুকুরে দিন দিন বেড়েই চলছে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন ঘটনা। চলতি বছর এ উপজেলায় এ পর্যন্ত এমন হাফ ডজন ঘটনা ঘটেছে। প্রেম কিংবা পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এসব নারী আর তরুণীদের বেশির ভাগেরই অভিযোগ ছিল, বিয়ের প্রলোভনে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের সর্বস্ব লুট করা হয়েছে।

এমন গুরুত্বর অভিযোগ তোলার পর অজ্ঞাত কারণে বেশীর ভাগ নারীই আইনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ফিরে গিয়েছেন বাড়িতে। দু’একটা বিয়ে হলেও বিয়ের কয়েকদিন পরেই মোটা অংকের দেনমোহর নিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে।

সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের আখিরার টাড়ী গ্রামে। ওই গ্রামের জনৈক ফজলুল হকের ছেলে রিফাত হোসেন (২০) নামে এক তরুণের বাড়িতে আকস্মিক চলে আসেন পার্শ্ববর্তী চেংমারী ইউনিয়নের জালাদিপুর গ্রামের এক তরুণী (১৭)।

বিয়ের দাবিতে রিফাতের বাড়িতে এক নারী উঠেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শতশত উৎসুক জনতা রিফাতের বাড়িতে ভিড় জমায় এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রিফাতসহ তার পরিবারের লোকজন আত্মগোপন করে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি একজন জনপ্রতিনিধির দরবার পর্যন্ত পৌঁছায়। অবশেষে গত শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) ওই তরুণী স্ব-ইচ্ছায় হাসতে হাসতে তার বাবার বাড়িতে ফিরে যান।

প্রায় ৪৮ ঘণ্টার অনশন নাটকীয়তায় ওই তরুণী স্থানীয়দের জানিয়েছিলেন, তার প্রেমিক রিফাত বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। তাকে বিয়ে না করলে রিফাতের বাড়িতেই তিনি আত্মহত্যা করবেন।সেখানে দুদিন পরেই রহস্যজনক কারণে নীরবে ফিরে গেলেন তার বাবার বাড়িতে। গ্রাম্য কানাঘুষায় জানা গেছে, বিয়ের দাবিতে অনশনে নামা ওই তরুণী তার কথিত প্রেমিক এবং তার পরিবারের সঙ্গে বিয়ে বা মামলা না করার শর্তে কিছু টাউটের সহায়তায় পাঁচ লক্ষ টাকার রফাদফায় তার বাবার বাড়িতে ফিরে গেছেন।

একের পর এক এসব ঘটনায় শান্তিকামী গ্রামবাসী এবং সচেতন মহল উদ্বিগ্ন। তাদের অভিমত এমন ঘটনা কঠোর হস্তে প্রতিরোধ করা না গেলে এক শ্রেণির মানুষ অনৈতিক সুবিধা আদায়ের নেশায় আরও মেতে উঠবে। যার প্রভাব পড়বে সমাজের নিরীহ মানুষের উপর। বর্তমানে ওই তরুণীর পরিবার কিংবা তার কথিত প্রেমিকের পরিবার আর কেউ মুখ খুলছেন না।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, প্রেমিকের বাড়িতে ওই নারীর অনশন করার খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019