২২ Jul ২০২৪, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি, সোমবার, ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
মাকে গাছে বেঁধে রেখে ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা

মাকে গাছে বেঁধে রেখে ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা

আজকের ক্রাইম ডেক্স

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় টাকা চুরির অভিযোগে মাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ছেলে নূর মোহাম্মদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা মঈন উদ্দিনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

রোবাবর (১৪ এপ্রিল) মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, শনিবার বিকেলে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠান নগর ইউনিয়নের বাথানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নুর মোহাম্মদ নোয়াখালীর সুধারাম থানার আন্দার চর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। তিনি ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন যাবত কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। গ্রেফতারকৃত মঈন উদ্দিন বাথানিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

নিহত নুর মোহাম্মদের মা বিবি খতিজা জানান, অভাবের কারণে চার বছর আগে নুর মোহাম্মদকে মঈন উদ্দিনের বাড়িতে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজে দিয়ে যান তিনি। তার মাসিক বেতন ধরা হয়েছিল দুই হাজার টাকা। গত চার বছরে তাকে ব্যাংক কর্মকর্তা কখনো ছুটি দেননি। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথাও বলতে দিতেন না ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। সেই ক্ষোভ থেকে গত ২৭ রমজান ব্যাংক কর্মকর্তার বাসা থেকে ৮০ হাজার টাকাভর্তি একটি খাম নিয়ে নুর মোহাম্মদ নোয়াখালীর বাড়ি চলে আসেন।

এরপর থেকে মোবাইলে হুমকি দিতে থাকেন ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের অব্যাহত হুমকিতে ঈদের পরদিন (শুক্রবার) ছেলেকে নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে হাজির হন তিনি। একইসঙ্গে চুরি করে নেয়া টাকাগুলোও ফেরত দেন।

নুর মোহাম্মদের মা অভিযোগ করে জানান, বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে মঈন উদ্দিনের চার ভাই মিলে তার ছেলেকে পেটাতে শুরু করেন। বাধা দিলে তারা তাকেও মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। শুক্রবার সারা রাত দফায় দফায় তার ছেলেকে পিটুনি দেন এবং পরদিনও মারধর করেন। গতকাল বিকেলে তাদের মারধরে মারা যান নুর মোহাম্মদ।

বিবি খতিজা বলেন, আমার ছেলের যদি কোনো অন্যায় থাকে, তাহলে তারা তাকে পুলিশে দিত। আমি তাদের কাছে আমার ছেলের জীবন ভিক্ষা চেয়েছি। তবু তাদের মন গলেনি। আমি এ হত্যার বিচার চাই। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে নুর মোহাম্মদের মা বিবি খতিজা ব্যাংক কর্মকর্তা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি হাসান ইমাম বলেন, মরদেহের পিঠ, কোমর, হাত-পাসহ পুরো শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে আরো ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। এজহারভুক্ত আসামি ব্যাংকার মঈন উদ্দিনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মারধরের কথা স্বীকার করেছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019