আবুল কাশেম রুমন,সিলেট: সিলেটে আদালত পাড়ায় নারী কনস্টেবল ও কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলছে তদন্ত কার্যক্রম চুল বিশ্লেষনের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে আদালতে কর্যস্থলে পরিদর্শক প্রদীব কুমার দাস ও সেই নারীকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। কিন্তু সিলেটে আলোচিত পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে নারী কর্মকর্তার সাথে দুর্ব্যবহার, উপ-পরিদর্শকদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কৌসুলির সাথেও করেছেন খারাপ আচরণ। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকান্ডের পর কক্সবাজার থেকে বদলি সূত্রে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)- তে যোগ দেন পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাস পিপিএম। সিলেটে যোগদানের পরও চালিয়ে যান একের পর এক অপকর্ম। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে এসএমপি’র জনৈক কনস্টেবলের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ জানিয়েছেন, প্রদীপ কুমার দাস বর্তমানে ক্লোজড। নারী কনস্টেবলকেও ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি সদস্যরা প্রতিবেদন জমা দেবেন। প্রতিবেদনটি আমরা পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়ে দেব। পরিদর্শক প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কনস্টেবলের বিরুদ্ধে এসএমপি থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রদীপের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে:
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাস সিলেট আদালতে এসএমপি’র কোতোয়ালি মডেল থানা ও জালালাবাদ থানার কোর্ট পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এই ২ থানার মামলা গুলোর অভিযোগপত্র, ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে তিনি দেখতেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদন্তের পর অভিযোগপত্র বা ফাইনাল রিপোর্ট প্রথমে মালখানায় জমা দিতে হয়। এরপর একসময় এটি কোর্ট পরিদর্শকের হাতে যায়। অভিযোগপত্র বা ফাইনাল রিপোর্টে কোনো ধরনের ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও তার। কোনো ভুল ধরা পড়লেই যেন কপাল খুলত কোর্ট পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসের। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ডেকে এনে আইনের মারপ্যাচ দেখিয়ে আদায় করতেন নগদ অর্থ। আবার অনেক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অহেতুক গালিগালাজ করে নাজেহাল করার ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছেন। গেল মাসে তার কাছে এক নারী উপ-পরিদর্শক নাজেহাল হন। পোষাক পরিহিত ওই নারী উপ-পরিদর্শকের সাথে তিনি খারাপ আচরণও করেন। ধমক দিয়ে ওই নারী উপ-পরিদর্শককে বের হয়ে যেতে বলেন কোর্ট পরিদর্শক প্রদীপ। একসময় ওই নারী উপ-পরিদর্শক কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট লিখিতভাবে অবহিত করার পরও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এভাবে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা তার কাছে নিগৃহীত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
কুমিল্লা নগরীর কোতোয়ালি থানার কাদরপাড় লাকসাম রোডের মদন কুমার দাসের পুত্র প্রদীপ কুমার দাস ১৯৮৬ সালের ১০ জানুয়ারি উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিরস্ত্র হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। চাকুরী বিধি অনুযায়ী আগামী বছরের ৩০ ডিসেম্বর স্বাভাবিক অবসর গ্রহণ করবেন। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডেও তিনি বসবাস করেন।
তার সাথে যোগদানকারী উপ-পরিদর্শকদের মধ্য পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও হয়েছেন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু, পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা অনিয়ম-অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া যায়।
গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হন। সিনহা রাশেদ হত্যাকান্ডের পর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে কক্সবাজার থেকে একযোগে ৩৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়। ৩৪ কর্মকর্তার একজন হলেন পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাস। কক্সবাজার কোর্ট থেকে তাকে সিলেট মহানগর পুলিশ এসএমপি’তে বদলি করা হয়। এসএমপি’তে যোগদানের পর কয়েক দিন নগর গোয়েন্দা শাখায় কাজ করলেও পরে সিলেট আদালতে পোস্টিং নেন। আদালতে যোগদানের পর চোখ পড়ে নারী কনস্টেবলদের প্রতি।
গত বুধবার রাতে আদালতে নিজ কক্ষ থেকে নারী কনস্টেবলের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে আটক হন প্রদীপ কুমার দাস। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ বেল্লাল তালুকদার
প্রধান কার্যালয় ফ্লাট#এ ৫ ট্রফিকাল হোম ৫৫/৫৬ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন রোড মগবাজার রমনা ঢাকা-১২১৭
মোবাইল নং- 01712573978
ই-মেইল:- ajkercrimenews@gmail.com
Copyright © 2026 আজকের ক্রাইম নিউজ. All rights reserved.