সোহেল সানি:
হেনরি ডিরোজিও। অবিভক্ত বাংলায় জনজাগরণের ইতিহাসে স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর পিতা জাতিতে পর্তুগিজ, আর মা ছিলেন খাঁটি বাঙালি। ১৮০৯ সালের ১৮ এপ্রিল কলকাতায় জন্মনেয়া হেনরি ডিরোজিও দম্ভ করে বলতেন, "মানুষই বড়, আল্লাহ বা ঈশ্বর বলে কিছু নেই। নেই বেহেশত-দোযখ বা স্বর্গ-নরক বলেও কিছু। ডিরোজিওকে এজন্য নাস্তিক বলা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে এটাকে হজম করতেন। নিজেকে প্রগতিবাদী ভাবতেন। তিনি ধর্মীয় কুসংস্কার ভেঙ্গে আধুনিক সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেকালের চিন্তাচেতনাকে পরিত্যাজ্য করতে চান। কেননা সেগুলো পুরনো কুসংস্কার ও ঘুণেধরা। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তরুণ সমাজ গড়তে হবে। চোখ ফেলেন কলকাতার হিন্দু কলেজের ছাত্রদে ওপর। আন্দোলনের স্ফূরণ ঘটাতে। ছাত্রদের একদল তাঁর তন্ত্রমন্ত্রে দীক্ষিত হলো। চাই ধর্মহীন আধুনিক সমাজ গঠনে একটি সংগঠন। আদর্শগুরু ডিরোজিও শুরু হলো ভবিষ্যত অঙ্কুরোদমের পরিকল্পিত অধ্যায়। "ইয়ং ক্যালকাটা" নামে সংগঠনের মাধ্যমে। পরে এটি "ইয়ং বেঙ্গল" নামে ভারতবর্ষের সীমানা ছাড়িয়ে পরিচিত হয়ে ওঠে। মানুষ নিজেকে যতবড় প্রতিভাবান, জ্ঞান-পন্ডিতই মনে করুন না কেনো, তা যে ঈশ্বর বা আল্লাহপ্রদত্ত, তা হয়তো কেউ অবচেতন মনে আবার কেউ সচেতন মনেই ভুলে বসেন। হেনরি ডিরোজিওর করুণ পরিণতি সেই সত্যের পক্ষে অঙ্গুলি নির্দেশ করে। মেধা-প্রতিভা ও নেতৃত্বগুণের দাম্ভিকতায় হেনরির মস্তিষ্কে যে মিথ্যার প্রাচীর খাড়া হয়েছিলো, তা কতটা নির্দয়ভাবে ভেঙ্গে পড়ে, সেই নিষ্ঠুরতম অধ্যায় পরে টানবো। মরণঘাতী ভয়াল "করোনা" দুনিয়াদারিকে প্রকম্পিত করে আকাশপানে এখন যে ঈশ্বরের সন্ধান করা হচ্ছে, তিনি নিশ্চয়ই আর কেউ নন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। সেই আল্লাহর অস্তিত্বেই বিশ্বাসী ছিলেন না ডিরোজিও। যেদেশে আযান নিষিদ্ধ, সেখানেও পবিত্র আযানের সুমধুর ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে আকাশে-বাতাসে অনুরণনের সৃষ্টির পরও কি সন্দেহ আছে, যে আল্লাহ প্রতিপালক নন, আল্লাহই সবকিছুর নিয়ন্তা নন? ডিরোজিও প্রসঙ্গে লেখার উদ্দেশ্য, তাঁর মতো তথাকথিত প্রগতিবাদী সমাজ সংস্কারকের সংখ্যা গুণতিতে অসংখ্য। শান্তি, শিক্ষা, প্রগতি যদি হয় ধর্মহীন আধুনিকবাদ, তাহলে তার পরিণতিটা কি? অনুসন্ধানী গবেষণা করতঃ কতিপয় স্মরণীয় ব্যক্তির নিষ্ঠুর পরিণতি চোখ পড়লো। এরা "নাস্তিক"। ইশ্বর, আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না। এমন অনেকের জীবন পরিণতির নিষ্ঠুর উপাখ্যান তুলে ধরবো পরবর্তী লেখায়। অবশ্য মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় "করোনার" থাবার বিষাক্ত হাত থেকে যদি আমার রক্ষা হয়। কলকাতা শহরে হেনরি ডিরোজিওদের পারিবারিক অঢেল প্রতিপত্তি ছিলো। পাঁচ ভাইবোন। বড় ডিরোজিও। এক ভাই ফ্রাংক খারাপ প্রকৃতির লোক হিসাবেই কলকাতাবাসীর কাছে ঘৃণার পাত্র ছিলেন। ছোট ভাই ক্লডিয়াস পড়াশোনার নামে বিদেশ গিয়ে চিরদিনের জন্য উধাও হয়ে যান। বোন সোফিয়ার অকালমৃত্যু হয় কঠিন রোগে। ছোটবোন এমিলিয়া ডিরোজিওর আর্দশবরণ করে ঈশ্বরের অবিশ্বাসী ছিলেন। কলকাতার ডেভিড ড্রামন্ডের "ধর্মতলা অ্যাকাডেমি"তেই হেনরির শিক্ষাজীবন শুরু। স্কুলটির প্রধানশিক্ষকটিই ডিরোজিওর অস্থিমজ্জায় ধর্মহীন কথিত প্রগতির চেতনা ঢুকিয়ে দেন। কোনো ধর্মবিশ্বাসের প্রতি শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের মতো ছাত্র ডিরোজিওর শ্রদ্ধা ছিলো না। তবে ছাত্র শিক্ষক অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ছিলেন। নাস্তিক হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁদের বানীকে গ্রহণ করতো কোমলমতি ছাত্ররা। কিশোর বয়সেই হেনরি ডিরোজিও কবিতা লিখেন। তা আবার আবৃত্তি ও অভিনয় করে বিস্মিত করে দেন সহপাঠীদের। মাত্র নয় বছর বয়সে স্থানীয় পত্রিকায় ডিরোজিওর কবিতা প্রকাশিত হয়। তিনি একটি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ বেল্লাল তালুকদার
প্রধান কার্যালয় ফ্লাট#এ ৫ ট্রফিকাল হোম ৫৫/৫৬ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন রোড মগবাজার রমনা ঢাকা-১২১৭
মোবাইল নং- 01712573978
ই-মেইল:- ajkercrimenews@gmail.com
Copyright © 2026 আজকের ক্রাইম নিউজ. All rights reserved.