আজকের ক্রাইম-নিউজ; বরগুনার আমতলীতে পাওনা টাকা চাইতে যাওয়ায় অন্তঃসত্ত্বাসহ তিন নারীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে দেনাদার মালেক হাওলাদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
আহত আনোয়ারা বেগম, বিউটি বেগম ও অন্তঃসত্ত্বা লিয়ামনিকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে তালতলী উপজেলার ছোট ভাইজোড়া গ্রামে শনিবার রাতে।
জানা গেছে, তালতলী উপজেলার ছোটভাইজোড়া গ্রামের মালেক হাওলাদার প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগম কাছ থেকে চার বছর আগে ২০ হাজার টাকা ধার নেয়। ওই টাকা গত চার বছরে ফেরত দেয়নি এমন অভিযোগ আনোয়ারা বেগমের। গতকাল শনিবার বিকেলে আনোয়ারা বেগমের বৃদ্ধা মা তারাভানু ওই টাকা চাইতে মালেকের কাছে যায়।
মালেক টাকা না দিয়ে বৃদ্ধা তারাভানুকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে তাড়িয়ে দেন। বৃদ্ধা মাকে গালাগালের বিষয়টি জানতে আনোয়ারা বেগম ওই দিন রাত ১০টার দিকে মালেকের বাড়িতে যান।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মালেক হাওলাদার, তাঁর ছেলে রুবেল, আলি আহম্মদ ও মাসুম আনোয়ারাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। তাঁকে রক্ষায় তার ছোট বোন বিউটি বেগম ও বোনের মেয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা লিয়ামনি এগিয়ে আসলে তাঁদেরকে বেধড়ক মারধর করেছে। স্বজনরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
গুরুতর আহত আনোয়ারা বেগম বলেন, চার বছর আগে মালেক হাওলাদার আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নেয়। ওই টাকা না দিয়ে ঘুরাতে থাকে। শনিবার বিকেল মা ওই টাকা চাইতে গেলে মাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।
আমি জেনে মাকে গালাগাল করায় বিষয়টি জানতে গেলে আমাকে পিটিয়ে চোখ, ঠোঁট, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্বানে গুরুতর জখম করেছে। আমাকে রক্ষায় আমার ছোট বোন ও অন্তঃসত্ত্বা বোনের মেয়ে এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করেছে। আমরা গবীর মানুষ আমাগো কি মান সম্মান নেই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
বড়বড়ী ইউপি সদস্য মো. খালেদ মাসুদ বলেন, মালেক হাওলাদারের কাছে আনোয়ারা বেগম টাকা পায়। ওই টাকা চাইতে যাওয়ায় আনোয়ারা ও তার পরিবারের লোকজন মারধরের শিকার হয়েছেন।
এ বিষয় মালেক হাওলাদারের ছেলে রুবেল মুঠোফোনে পাওনা টাকা ও মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, আনোয়ারা বেগমের বোন বিউটি বেগম আমার দাদিকে মারধর করেছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. হিমাদ্রী রায় বলেন, আহত আনোয়ারা বেগমের চোখ, ঠোঁট ও মুখমণ্ডলসহ বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকেসহ অপর আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তালতলী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আহতরা থানায় এসেছিল তাদের চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ বেল্লাল তালুকদার
প্রধান কার্যালয় ফ্লাট#এ ৫ ট্রফিকাল হোম ৫৫/৫৬ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন রোড মগবাজার রমনা ঢাকা-১২১৭
মোবাইল নং- 01712573978
ই-মেইল:- ajkercrimenews@gmail.com
Copyright © 2026 আজকের ক্রাইম নিউজ. All rights reserved.