আজকের ক্রাইম ডেক্স
করোনার উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন বৃদ্ধ বাবা। এ কষ্ট সইতে না পেরে অক্সিজেন সিলিন্ডার আনতে ছুটে গেলেন ছেলে। একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারও পেয়ে গেলেন। খুশি মনে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফিরছিলেন বাড়ি। কিন্তু পথিমধ্যে তাকে আটক করে পুলিশ। মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখার নামে ঘণ্টা দুয়েক আটকে রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। ততক্ষণে যা হওয়ার তাই হলো। বাড়িতে ফিরে ছেলে দেখলেন অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন বাবা।
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈচনা গ্রামে ঘটেছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ওই বৃদ্ধের নাম মো. রজব আলী মোড়ল (৬৫)। তিনি সদর উপজেলার বৈচনা গ্রামের বাসিন্দা।
বৃদ্ধের ছেলে ওলিউল ইসলাম জানান, বাড়িতে চিকিৎসাধীন অসুস্থ বাবার জন্য জরুরি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। তিনি সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আল ফেরদৌস আলফার কাছ থেকে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ইটাগাছা হাটের মোড়ে পৌঁছালে তাকে আটক করেন ইটাগাছা ফাঁড়ির এএসআই সুভাষ চন্দ্র। মোটরসাইকেলের কাগজপত্র কাছে না থাকায় সেখানে ২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। অনেক অনুরোধের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর বাড়িতে গিয়ে দেখেন অক্সিজেনের অভাবে তার বাবা মারা গেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, যদি সময় মতো অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাড়িতে ফিরতে পারতাম, তাহলে হয়তো বাবাকে বাঁচানো যেত। আমি এ অমানবিক ঘটনার বিচার চাই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, সুভাষের কারণে পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এলাকার যত জমির ঝামেলা আছে সেগুলোর মধ্যে সে মাথা দেয়। অনেকে তাকে ল্যান্ড সুভাষ নামে চেনেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুভাষ চন্দ্র বলেন, বেপরোয়া গতিতে আসছিল মোটরসাইকেলটি। কাগজপত্রও ছিল না। পরে ঘটনা শুনে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২/৩ মিনিট মোটরসাইকেলটি থামিয়ে রাখা হয়েছিল।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে এ সম্পর্কে আরও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বাড়ছে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় ৪০৩ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেল। আর করোনা পজিটিভ রোগী মারা গেছেন ৭৬ জন। এদিকে ২৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৯ জন পজিটিভ হয়েছে। যার আক্রান্তের হার দাঁড়ালো ৩৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন জেলার হাসপাতাল-ক্লিনিকে। লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি শহরে কিছুটা মানা হলেও মানা হচ্ছে না গ্রামেগঞ্জে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ বেল্লাল তালুকদার
প্রধান কার্যালয় ফ্লাট#এ ৫ ট্রফিকাল হোম ৫৫/৫৬ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন রোড মগবাজার রমনা ঢাকা-১২১৭
মোবাইল নং- 01712573978
ই-মেইল:- ajkercrimenews@gmail.com
Copyright © 2026 আজকের ক্রাইম নিউজ. All rights reserved.