আজকের ক্রাইম ডেক্স
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গৃহবধূ শান্তা আক্তার (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক স্বামী স্কুলশিক্ষক আমিনুল ইসলাম। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ন কবিরের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া আসামির এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি আমিনুল আদালতকে বলেছেন; পারিবারিক অশান্তির কারণে স্ত্রী শান্তাকে শিলপাটা দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে হত্যা করেছেন তিনি। এরপর মাছ কাটার বঁটি দিয়ে শরীরের কয়েক জায়গায় চামড়া ছিলে তাতে লবণ লাগিয়ে দেন।
মঙ্গলবার বিকেলে শান্তার মরদেহ উদ্ধারের পর বাবা কলিমউল্লাহ বাদী হয়ে রাতেই মেয়ের ঘাতক আমিনুলকে আসামি করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার বারদি ওরলাপুর এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে বন্দর গার্লস স্কুলের শিক্ষক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে ২০১৭ সালে সোনারগাঁ উপজেলার বারদি এলাকার কলিমউল্লাহ’র মেয়ে শান্তা আক্তারের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের কারণে ২০১৯ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর শান্তার অন্যত্র বিয়ে হয়। ৭ মাস ওই স্বামীর সঙ্গে সংসার করার পর ২০ অক্টোবর আমিনুল ফুসলিয়ে পুনরায় শান্তাকে বিয়ে করেন। এরপর বন্দরের রাজবাড়ি এলাকার সুলতান মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করেন তারা। পুনরায় বিয়ের ২ মাস ৬ দিনের মাথায় স্ত্রী শান্তাকে হত্যা করেন আমিনুল ইসলাম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বন্দর থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক আবদুস সবুর জানান, বুধবার আদালতে হাজির করা হলে আমিনুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, গত ২৬ ডিসেম্বর আমিনুল তার স্ত্রী শান্তাকে হত্যা করে শরীরের চামড়া ছিলে লবণ মেখে লাশ গুম করার জন্য কম্বল মুড়িয়ে তিন দিন ভাড়া বাসায় রেখে দেন। মাছ কেটে যেভাবে হলুদ মরিচ আর মসলা মাখানো হয় ঠিক সেভাবেই স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে লবণ মাখানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল মরদেহ যেন পচে না যায় কিংবা দুর্গন্ধ না ছড়ায়। কিন্তু সময় বেশি অতিবাহিত হওয়ায় লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে ঘরে সেই মরদেহ রাখা সম্ভব হয়নি। তাই অসুস্থ বলে মৃত স্ত্রীকে কম্বল মুড়িয়ে চলে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সেখানে গিয়ে স্ত্রী অসুস্থ বলে নাটক সাজান। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা লবণ মাখানো নারীর নিথর দেহ দেখেই আঁতকে উঠেন। লাশের অবস্থা দেখে ধারণা করেন কয়েক দিন আগেই হত্যা করা হয়েছে। লাশ ফেলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে হাসপাতালে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে আমিনুলকে আটক করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ বেল্লাল তালুকদার
প্রধান কার্যালয় ফ্লাট#এ ৫ ট্রফিকাল হোম ৫৫/৫৬ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন রোড মগবাজার রমনা ঢাকা-১২১৭
মোবাইল নং- 01712573978
ই-মেইল:- ajkercrimenews@gmail.com
Copyright © 2026 আজকের ক্রাইম নিউজ. All rights reserved.