শুক্রবার, ১৮ Jun ২০২১, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

Notice :
চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ইংলিশ সুন্দরী

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ইংলিশ সুন্দরী

যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে- এ প্রবাদটি পুরোপুরি যথার্থ ইংল্যান্ড নারী দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সারাহ জেন টেলরের জন্য। তিনি দেখতে যেমন সুন্দরী, তেমনি ক্রিকেটার হিসেবেও সেরাদের অন্যতম। উইকেটরক্ষক হিসেবে তিনি নারী ক্রিকেটের সবার সেরা, ব্যাটার হিসেবেও রয়েছেন সেরাদের কাতারে। আর তার রূপের বর্ণনায় হয়তো লিখে ফেলা যাবে পুরো এক কবিতার বই।

কিন্তু সারাবিশ্বের ক্রিকেট ভক্তদের মন খারাপ করার মতো খবর জানিয়েছেন সারাহ টেলর। বিদায় জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গুটিয়ে নিয়েছেন ইংলিশ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। মূলত গত কয়েক বছর ধরেই নিজের মানসিক দুশ্চিন্তার কারণে ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টেলর।

২০০৬ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সারাহ টেলরের। গত ১৩ বছরে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে ২২৬টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ছিলেন ইংলিশ নারী ক্রিকেটের সেরা দুই সাফল্যের অংশ। ২০০৯ সালে বিশ্ব টি-টোয়েন্টি এবং ২০১৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন টেলর। ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে ৫৪ ও ৪৫ রান করে বড় অবদান রাখেন তিনি।

তিন ফরম্যাট মিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সারাহ টেলরের ঝুলিতে রয়েছে ৬৫৩৩ রান। যা কি না ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে নবম সর্বোচ্চ ৪০৫৬ এবং টি-টোয়েন্টিতে সপ্তম সর্বোচ্চ ২১৭৭ রান করেছেন তিনি। ওয়ানডেতে ২০ ফিফটির সঙ্গে রয়েছে ৭টি সেঞ্চুরি এবং কুড়ি ওভারে ৮৭ ইনিংসে ১৬ বার ছাড়িয়েছেন পঞ্চাশ।

তবে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট হাতে খুব একটা আলো ছড়াতে পারেননি টেলর। দশ ম্যাচ খেলে পারেননি একবারও ফিফটি পেরোতে, মোট সংগ্রহ ৩০০ রান। এছাড়া উইকেটরক্ষক হিসেবে তিন ফরম্যাট মিলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৩২ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড সারাহ টেলরেরই দখলে। ফরম্যাটভেদে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৭৪ ডিসমিসালের (২৩ ক্যাচ ও ৫১ স্টাম্পিং) রেকর্ড, ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩৬ ডিসমিসাল (৮৫ ক্যাচ ও ৫১ স্টাম্পিং) এবং টেস্টে তার ডিসমিসালের সংখ্যা ২০ (১৮ ক্যাচ ও ২ স্টাম্পিং)।

নিজের অবসরের খবর জানিয়ে সারাহ টেলর বলেন, ‘এটা আমার জন্য অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত। তবে আমি জানি সিদ্ধান্তটি নেয়ার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে খেলা আমার জন্য স্বপ্নের মতো ছিলো এবং সেটা ২০০৬ সালে পূরণ করতে পেরেছি। অ্যাশেজ জয়, লর্ডসে বিশ্বকাপ জেতা- সবকিছু মনের গভীরে থাকবে সবসময়। অতীতে এবং বর্তমানে যাদের সতীর্থ হিসেবে পেয়েছি তাদের অশেষ ধন্যবাদ। ধন্যবাদ জানাই ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডকে, সমর্থকদের এবং আমার বন্ধুদের যারা আমার পাশে ছিলেন।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019
Bengali English